‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হওয়ার ঝুঁকিতেও ছিলেন সালমান | চ্যানেল আই অনলাইন

‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হওয়ার ঝুঁকিতেও ছিলেন সালমান | চ্যানেল আই অনলাইন

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সালমান আলী আগার রানআউট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থামছেই না। এবার বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করল মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থাটির মতে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হওয়ার ঝুঁকিতেও ছিলেন সালমান।

এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছে এমসিসি। সংস্থাটি বলেছে, ‘সালমান যখন বল তুলতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড (ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া) আউট হওয়ার ঝুঁকিতেও ছিলেন। ওই সময় বল তোলার চেষ্টা না করে তার ক্রিজে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল। আম্পায়াররা সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বলটি তখনও খেলার মধ্যে ছিল এবং স্টাম্প ভাঙার সময় ক্রিজের বাইরে ছিলেন আগা, তাই এটি আউট।’

এমসিসি বলছে, বলটিকে ‘ডেড বল’ হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ ছিল না। খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই বল ডেড হয় না। গুরুতর চোট না থাকলে বা সবাই খেলা থেমে গেছে বলে ধরে না নিলে বল ডেড ধরা যায় না। এখানে মেহেদী স্পষ্টভাবেই বলটি খেলা চালু অবস্থাতেই ধরেছেন।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে নতুন ডেড বল আইন কার্যকর হলেও এই ঘটনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত একই থাকতো। কারণ বল তখনও ‘ফাইনালি সেটেল্ড’ হয়নি বরং ফিল্ডার সেটি নিয়ে রানআউটের চেষ্টা করছিলেন।

সুতরাং, আইনের দৃষ্টিতে এটিকে ‘নট আউট’ বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’-এর প্রসঙ্গে এমসিসি বলেছে, এটি সম্পূর্ণ ফিল্ডিং দলের সিদ্ধান্তের বিষয়।

ইনিংসের ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলের ঘটনা। বোলার মেহেদী হাসান মিরাজকে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে সেটা সোজা চলে যায় ননস্ট্রাইকের দিকে। পা দিয়ে ফিরতি বল থামান মিরাজ, তবে ক্রিজের বাইরে থাকা অবস্থায় সেটি হাত দিয়ে তুলতে চান ননস্ট্রাইক ব্যাটার সালমান। এতে দুইজনের মৃদু সংঘর্ষও হয়। সালমানের আগেই বল ধরে উইকেট ভেঙে দেন মিরাজ, তখনও ক্রিজের বাইরে সালমান। ফলে আম্পায়ারও আউট দেন।

এ ঘটনার পর অনেকেই আগার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে বলেছেন, এই আউটটি স্পিরিট অব ক্রিকেটের পরিপন্থী। তবে এমসিসি জানিয়েছে, মেহেদী চাইলে অধিনায়ক হিসেবে আপিল তুলে নিতে পারতেন। কারণ আগা মনে করেছিলেন বল ডেড এবং তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন, পাশাপাশি সংঘর্ষের কারণে তার পক্ষে ক্রিজে ফেরা কঠিন হয়ে গিয়েছিল।

ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার আইনে আউট হলেও ফিল্ডিং দল চাইলে স্পিরিট অব ক্রিকেটের ভিত্তিতে তাকে খেলতে দেওয়ার জন্য আপিল প্রত্যাহার করতে পারে।

Scroll to Top