অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না – DesheBideshe

অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না – DesheBideshe

অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না – DesheBideshe

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর – ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীতে এই প্রথম বৃহৎ পরিসরে র‌্যালি করেছে বিএনপি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া এ বর্ণাঢ্য র‌্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে নেতাকর্মীদের ঢল নামে।

এর আগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পরে র‌্যালির উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

আসিফ নজরুলের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পরিণতি ভোগ করতেই হবেআসিফ নজরুলের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পরিণতি ভোগ করতেই হবে
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র এখনও কিন্তু থেমে নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা দেশে-বিদেশে, শাসনে-প্রশাসনে এখনো সক্রিয়। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। নিজেদের সতর্ক করতে চাইলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটি আজ জনগণের চাওয়া। আসুন এই লক্ষ জনতার মিছিলকে কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার রাজপথে আজ লাখো জনতার মিছিল, দেশের পক্ষের শক্তিকে ৭ নভেম্বরের অন্তর্নিহিত শিক্ষায় দীক্ষিত করার মিছিল এটি। লাখো জনতার আজকের এই মিছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতা ও হাজারো শহীদের স্বপ্নে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ী মিছিল। এটি রাজধানীর রাজপথে কারোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তোলার মিছিল নয় বরং দেশের স্বার্থ রক্ষার মিছিল। নিজের ভোট প্রয়োগের অধিকার আদায়ের মিছিল, নিজের অধিকার রক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মিছিল।

মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশেও স্বল্প আয়ের মানুষদের বাজার সিন্ডিকেটের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যদি না আমরা মানুষের সরাসরি ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য প্রতিটি নাগরিকের সরাসরি ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সক্ষমতা অর্জন জরুরি। স্থানীয় সরকার থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নির্বাচিত হতে ইচ্ছুক জনপ্রতিনিধিদের জনগণের ভোটের প্রতি মুখাপেক্ষী না করা পর্যন্ত জনগণ গণতন্ত্রের সুফল পাবে না।

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৭ নভেম্বরের র‌্যালির কর্মসূচি বিএনপিকে নানা শর্ত সাপেক্ষে সংক্ষিপ্তভাবে করতে হতো। র‌্যালি ও সড়ক ব্যবহারের অনুমতি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখত পুলিশ। তখন পুলিশের অনুমতি নিয়ে নয়াপল্টন থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত কয়েকটি র‌্যালি করেছিল বিএনপি। এই রুটের বাইরে এক যুগের বেশি সময় পরে এই প্রথম মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত র‌্যালি করেছে বিএনপি।

ফকিরেরপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীর এই সমাবেশ একপর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকেল পৌনে ৪টায় নয়াপল্টন থেকে র‌্যালি শুরু হয়। কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরার মোড় থেকে শুরু হওয়া র‌্যালিটি কাকরাইল মোড়-কাকরাইল মসজিদ-মৎস্যভবন-ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট-শাহবাগ-হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-বাংলামোটর-কারওয়ান বাজার-ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে সন্ধ্যা ছয়টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

মির্জা ফখরুলসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আজম খান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মজিবুর রহমান সারোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নাসির উদ্দিন অসীম, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, মীর নেওয়াজ আলী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ডা. রফিকুল ইসলাম, সাইফুল আলম নিরব, রকিবুল ইসলাম বকুল, নিলুফার চৌধুরী মনি, তাইফুল ইসলাম টিপু, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, নুরুল ইসলাম নয়ন, এস এম জিলানি, রাজীব আহসান, হাসান জাফির তুহিন, রাকিকুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দীন নাছির, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা র‌্যালিতে ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একটি খোলা ট্রাকে এই মিছিলে অংশ নেন। বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সকল থানা ও ওয়ার্ডসহ মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বাসে করে নেতাকর্মীরা এই র‌্যালিতে অংশ নেন।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
আইএ/ ০৮ নভেম্বর ২০২৪



Scroll to Top