ইতিহাস গড়ে প্রথমবার এএফসি নারী এশিয়ান কাপে খেলছে বাংলাদেশের মেয়েরা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে লাল-সবুজ দল। তবে চীন ও নর্থ কোরিয়ার মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা চাকমারা। এশিয়ার সেরা দলগুলোর সঙ্গে এমন পারফরম্যান্সে অবশ্য সন্তুষ্ট কোচ পিটার বাটলার। তার মতে মেয়েদের এ অর্জনকে অনেকে ছোট করে দেখলেও তিনি গর্বিত।
এএফসি এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সোমবার পার্থে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এইচবিএফ পার্কে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শুরু লড়াই।
রোববার সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ দিনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার বলেছেন, ‘আমি আফ্রিকায় আট বছর পুরুষ জাতীয় দলের কোচ ছিলাম। সামাজিক প্রেক্ষাপটে আফ্রিকা অনেকটা বাংলাদেশের মতোই, সবারই একটি করে গল্প আছে। আমি সবসময় নারীর অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোয় বিশ্বাসী। আমি জানি আমি যখন এটি করি তখন অনেকে পছন্দ করেন না, কিন্তু আমি ঝুঁকি নিতে পিছপা হই না। আমি এই দলের হয়ে কাজ করতে পেরে গর্বিত। আমরা একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। আমি “আমি শব্দের বদলে আমরা” বলতে পছন্দ করি।’
‘আমি মনে করি আমরা অনেক দূর এসেছি, যদিও পথে অনেক বাধা ছিল। এমনকি আগামীকাল যদি আমরা না-ও জিতি, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ আমরা শুধু জেতার জন্যই এখানে আসিনি। আমাদের মধ্যে যে লড়াকু মানসিকতা আছে সেটিই বড় কথা।’
‘আমি শুধু একা নই, আমরা সম্মিলিতভাবে মেয়েদের সুযোগ-সুবিধা, থাকার পরিবেশ, ট্রেনিং কন্ডিশন এবং পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করেছি। আমি তাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কঠোর হয়েছি, কিন্তু আমি জানি তারা খুব কঠিন পরিবেশ থেকে উঠে এসেছে এবং আমি তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল।’
‘আমার নিজের তিনটি সন্তান আছে, তাই আমি বুঝি সন্তান লালন-পালন কেমন। আমার সন্তানরা এই মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি ভাগ্যবান ছিল। অনেকে হয়তো আমাদের অর্জনকে ছোট করে দেখেন এবং পুরুষ দলের সঙ্গে তুলনা করেন, কিন্তু আমি সারাদিন এটি নিয়ে কথা বলতে পারি। যাই হোক, আগামীকালের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।’



