West Medinipur News: হ্যান্ডলুমেও বাড়ছে লাভের অঙ্ক, রোজগারের নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছেন তাঁতশিল্পীরা

West Medinipur News: হ্যান্ডলুমেও বাড়ছে লাভের অঙ্ক, রোজগারের নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছেন তাঁতশিল্পীরা

Last Updated:

চাহিদা কমছে হাতে বোনা তাঁতের শাড়ির, তাই নতুন রাস্তা বেছে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হচ্ছেন গ্রামের তাঁতশিল্পীরা।

X

West Medinipur News: হ্যান্ডলুমেও বাড়ছে লাভের অঙ্ক, রোজগারের নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছেন তাঁতশিল্পীরা

তাঁতে বুনছেন গামছা

পশ্চিম মেদিনীপুর: প্রত্যন্ত বাংলায় গামছার চাহিদা রয়েছে বেশ। শুধু বাংলা নয় বাংলার পার্শ্ববর্তী একাধিক রাজ্যেও গামছার চাহিদা রয়েছে। তবে এই ট্র্যাডিশনাল পোশাক বানিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছেন গ্রামের বহু তাঁত শিল্পী। হারিয়ে যেতে বসা হ্যান্ডলুম ক্রমশ তার যৌবন জৌলুস ফিরে পাচ্ছে গামছা তৈরি করে। অন্যান্য পোশাক না তৈরি করে গামছা বানিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছে, গ্রামের বহু তাঁত শিল্পীদের পরিবার। তাদের হাতে তৈরি গামছা পাড়ি দিচ্ছে জেলা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও। স্বাভাবিকভাবে যন্ত্রের যন্ত্রের খটখট আওয়াজ করে কাঠের লুম চালিয়ে গামছা তৈরি করে স্বনির্ভর হচ্ছেন বহু মানুষ।

পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় তাঁতের শাড়ি বুনে বহু পরিবার সংসার চালালেও কালের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবার সামলাতে বদল করতে হয়েছে পেশা। তবে জেলার দাঁতন ২ ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে বেশ কয়েকটি পরিবার টিকিয়ে রেখেছে হ্যান্ডলুম। হ্যান্ডলুমে শাড়ি বুনে নয়, শাড়ির পরিবর্তে গামছা বুনে সংসার চালাচ্ছেন শিল্পীরা। সেই গামছা বাইরেও বিক্রি হচ্ছে। সারাদিন বাড়ির পুরুষদের সঙ্গে মহিলারাও গামছা বুনে নিজেদের জীবনজীবিকা নির্বাহ করছেন।

আরও পড়ুন: শীতে এক দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন কলকাতার খুব কাছের এই কয়েকটি জায়গা! মন ভরে যাবে

প্রসঙ্গত বিজ্ঞানের উন্নতির পর হ্যান্ডলুম বা হস্ত চালিত তাঁত ক্রমশই তার কৌলিন্য হারায়। একটা শাড়ি বা কাপড় বুনতে যে পরিমাণ সময় লাগে, যন্ত্রে তা অনেক দ্রুত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কাঁচামালের অভাবের কারণে কার্যত বন্ধই হয়ে যায় হস্তচালিত তাঁত। তবে এই গ্রামেই সকাল থেকে এলে শুনতে পাওয়া যায় ঠকঠকানি আওয়াজ। বেশ কয়েকটি ঘরে এখনও টিকে আছে হস্তচালিত তাঁত। প্রতিদিন হস্তচালিত তাঁতে গামছা বুনে সংসার চালাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। জানা গিয়েছে, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যবহার করেন এই সকল গামছা। তাই তাদের পছন্দমত ডিজাইন এবং রংয়ের গামছা তৈরি করছেন শিল্পীরা।

আরও পড়ুন: বলুন তো ভারতের ‘মিনি ইন্ডিয়া’ কোন শহরকে বলা হয়? ইতিহাস জানুন

সুতো নয় পলিয়েস্টারের গামছা বুনছেন তারা। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি গামছা বুনেন প্রত্যেকে। স্থানীয় বাজার সহ তাদের হাতে বোনা এই গামছা বিক্রি হয় ওড়িশা, ঝাড়খন্ডেও। তার থেকে যে লাভ জুটছে তাতেই চলছে সংসার। তবে সরকারিভাবে সাহায্যের আশ্বাস জানিয়েছেন শিল্পীরা। স্বাভাবিকভাবে হস্ত চালিত তাঁত যখন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, তখন গামছাতেই নতুন দিশা বুনছেন গ্রামের এই তাঁত শিল্পীরা।

রঞ্জন চন্দ

Scroll to Top