Villagers Climb Tree for OTP: OTP আসলেই এখানে গাছে উঠে যান মানুষ! 5G-এর যুগে মিলছে না 2G পরিষেবাও, কোন গ্রাম জানেন?

Villagers Climb Tree for OTP: OTP আসলেই এখানে গাছে উঠে যান মানুষ! 5G-এর যুগে মিলছে না 2G পরিষেবাও, কোন গ্রাম জানেন?

Last Updated:

Villagers Climb Tree for OTP: এই জেলার বহু গ্রামে আজও বিদ্যুৎ, রাস্তা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। OTP পাওয়ার জন্য মানুষ গাছে বা জলাধারের ট্যাংকিতে উঠতে বাধ্য হন। এই চিত্র ডিজিটাল ইন্ডিয়ার বাস্তবতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। বিস্তারিত জানুন…

OTP আসলেই এখানে গাছে উঠে যান মানুষ! 5G-এর যুগে মিলছে না 2G পরিষেবাও, কোন গ্রাম জানেন?Villagers Climb Tree for OTP: OTP আসলেই এখানে গাছে উঠে যান মানুষ! 5G-এর যুগে মিলছে না 2G পরিষেবাও, কোন গ্রাম জানেন?
OTP আসলেই এখানে গাছে উঠে যান মানুষ! 5G-এর যুগে মিলছে না 2G পরিষেবাও, কোন গ্রাম জানেন?

হরদা: মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলা, যা ভোপাল থেকে মাত্র ১৬৮ কিমি দূরে, উন্নয়নের দিক থেকে এখনও কয়েক দশক পিছিয়ে। এখানকার অনেক গ্রাম আজও বিদ্যুৎ, রাস্তা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যদিও ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র স্লোগান সারা দেশে গর্জে উঠছে, কিন্তু হারদার এই গ্রামগুলিতে একটিমাত্র OTP পাওয়ার জন্য মানুষকে জলাধারের ট্যাংকি বা উঁচু গাছে উঠতে হচ্ছে। এই চিত্র কেবল গ্রামবাসীদের দুর্দশা তুলে ধরছে না, বরং সরকারি প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থাও স্পষ্ট করছে।

অন্ধকারে ডুবে থাকা গ্রাম হারদা জেলার অনেক গ্রামে আজও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। ৩০ জানুয়ারি ২০২৫-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের কিছু অঞ্চলে এখনও বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। হারদাও তার ব্যতিক্রম নয়। গ্রামের মানুষ এখনও লন্ঠন বা হারিকেনের আলোয় রাত কাটাচ্ছেন। চাষের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প চালাতে কিছু মানুষ নিজের খরচে জেনারেটর কিনেছেন, কিন্তু ডিজেলের বাড়তি খরচে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। মার্চ ২০২৫-এ হারদার চারটি গ্রামের কৃষকরা বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রতিবাদে হাণ্ডিয়া বিদ্যুৎ অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, কারণ মুগ ডালের চাষে বিদ্যুৎ ঘাটতি সরাসরি তাদের জীবিকায় প্রভাব ফেলছে।

রাস্তার অপ্রতুলতা হারদার অনেক গ্রামে রাস্তা নেই, আর যেগুলি আছে সেগুলি এতটাই খারাপ যে হাঁটা দুষ্কর। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার (PMGSY) অধীনে রাস্তা তৈরির কাজ চলছে, কিন্তু এখনও অনেক গ্রাম এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এক গ্রামবাসী বলেন, “অসুস্থ হলে আমাদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয় বা গরুর গাড়িতে হাসপাতালে যেতে হয়। বর্ষায় তো রাস্তাগুলো আরও খারাপ হয়ে পড়ে।” রাস্তার অভাবে শিশুদের স্কুলে যাওয়া কষ্টকর হয়ে ওঠে, ফলে শিক্ষার মানও নিচে নেমে যাচ্ছে।

মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগেও হারদার গ্রামগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাব এক নির্মম বাস্তবতা। অনেক গ্রামে মোবাইল টাওয়ারই নেই। কোথাও থাকলেও সিগনাল এত দুর্বল যে কল করাও কষ্টকর। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের কিছু আদিবাসী এলাকায় মানুষ জলাধারের ট্যাংকিতে উঠে নেটওয়ার্ক ধরছেন। হারদাতেও একই চিত্র। এক যুবক বলেন, “ব্যাংক থেকে OTP নিতে হলে আমাকে অর্ধেক কিমি দূরের ট্যাংকিতে উঠতে হয়। যদি সিগনাল না পাই, ট্রানজেকশন ঝুলে থাকে।” এর ফলে শুধু ডিজিটাল লেনদেনই নয়, সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য থেকেও গ্রামবাসীরা বঞ্চিত হন।

আদিবাসী প্রধান অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ হারদা জেলা মূলত কোরকু ও গোঁড আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এলাকা, যাদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ। এদের জীবিকা মূলত কৃষি ও শ্রম নির্ভর। কিন্তু মৌলিক সুবিধার অভাবে তাদের উন্নয়ন থমকে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সহজ বিদ্যুৎ যোজনা এবং সূর্য যোজনার মতো প্রকল্প চললেও, এগুলির বাস্তব প্রয়োগ এই গ্রামগুলোতে হয়নি। গ্রামবাসীরা বলছেন, ভোটের সময় নেতারা নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে আর কোনো খোঁজ নেন না।

সমাধান কী? হারদার গ্রামবাসীদের দাবি, সরকার যেন বিদ্যুৎ, রাস্তা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো মৌলিক সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেয়। জেলা প্রশাসনের উচিত PMGSY ও বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। মোবাইল টাওয়ার বসানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত যাতে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সুফল এই গ্রামগুলিতেও পৌঁছায়। সমাজকর্মীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, হারদার আদিবাসী অঞ্চলের জন্য আলাদা উন্নয়ন নীতি তৈরি করা হোক, যেখানে স্থানীয় প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। হারদার এই গ্রামগুলোর গল্প আমাদের ভাবতে বাধ্য করে— ডিজিটাল ইন্ডিয়া আর বিকশিত ভারতের স্বপ্ন কি শুধুই শহরের জন্য? যতদিন না গ্রামে বিদ্যুৎ, রাস্তা ও নেটওয়ার্ক পৌঁছাবে, ততদিন উন্নয়নের গল্প অপূর্ণই থেকে যাবে।

Scroll to Top