TMC-BJP: কতটা ফ্যাক্টর হিন্দিভাষী ভোট? ময়দানে দু’পক্ষই, কটাক্ষ আর পাল্টা কটাক্ষে জমজমাট রাজনীতি

TMC-BJP: কতটা ফ্যাক্টর হিন্দিভাষী ভোট? ময়দানে দু’পক্ষই, কটাক্ষ আর পাল্টা কটাক্ষে জমজমাট রাজনীতি
কতটা ফ্যাক্টর হিন্দিভাষী ভোট? ময়দানে দুই পক্ষইTMC-BJP: কতটা ফ্যাক্টর হিন্দিভাষী ভোট? ময়দানে দু’পক্ষই, কটাক্ষ আর পাল্টা কটাক্ষে জমজমাট রাজনীতি
কতটা ফ্যাক্টর হিন্দিভাষী ভোট? ময়দানে দুই পক্ষই

আবীর ঘোষাল, কলকাতা: পাখির চোখ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট। তার আগে নজরে হিন্দিভাষী ভোটার। কোমর বেঁধে ময়দানে তৃণমূল-বিজেপি। এ নিয়ে এখন থেকেই চড়ছে রাজনীতির পারদ। কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘যিনি বাংলায় কথা বলেন তিনিও জানেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মর্ম। যিনি হিন্দিতে কথা বলেন তিনিও জানেন। বিজেপি বারবার ধর্ম-ভাষায় ভেদাভেদের চেষ্টা করেন। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে এগুলো সফল হবে না।’’ অন্যদিকে  দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘‘যারা বলে বিহার-ইউপির লোকরা গুণ্ডা, এরা এসে এখানে দাঙ্গা বাধায়, মারপিট করে। যাদের বহিরাগত বলে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেই বিহার ইউপির লোকরা কী ভোট দেবে?’’

আরও পড়ুন– না কোনও প্রেমের গুঞ্জন, তো না কোনও পরকীয়ার জল্পনা; ইন্ডাস্ট্রির এক সুপারস্টারের ঘরণী হয়েই ৫২ বছর কাটিয়ে দিলেন এই বাঙালি অভিনেত্রী

রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের ভোটে নজরে হিন্দিভাষী ভোটার। দেশে হিন্দি বলয় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। আর বাংলার হিন্দিভাষীদের বড় অংশ বিজেপির ভোটার বলেই দাবি করে পদ্মশিবির। চব্বিশের লোকসভা ভোটে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিজেপির হিন্দিভাষী ভোট ব্যাঙ্কে ধস নেমেছে। আসানসোল, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বারাকপুর এবং মেদিনীপুরের মতো লোকসভা কেন্দ্রে হিন্দিভাষী ভোটারের সংখ্যা তুলনায় বেশি, ২০১৯ সালে এই সব কেন্দ্রে যেতে বিজেপি। আর ২০২৪ সালে এই চার কেন্দ্র বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। চব্বিশে বিজেপির বাক্সে হিন্দিভাষীদের ভোট কম পড়েছে। তবে হিন্দিভাষীদের মধ্যে যে তৃণমূলের প্রভাব ব্যাপক বেড়েছে এমন নয়। লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে শিলিগুড়ি, ইংরেজবাজার, আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ, দুর্গাপুর পশ্চিম, বিধানগর, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকোর মতো বিধানসভা কেন্দ্রে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।

আরও পড়ুন– মিঠুন, বনি কিংবা রজনীকান্ত নন; বরং মেয়ের জন্য এই অভিনেতাকেই জামাই হিসেবে পছন্দ ছিল শ্রীদেবীর মায়ের, কিন্তু সত্যটা জানার পর যা করেছিলেন…

এই সব এলাকায় হিন্দিভাষীদের ভোট বড় ফ্যাক্টরঅন্যদিকে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান এবং কলকাতার অনেক হিন্দিভাষী প্রধান এলাকায় তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও কড়া টক্কর দিয়েছে বিজেপি। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এই সব এলাকায় বাড়তি নজর দিচ্ছে তৃণমূল। তাঁদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গিয়ে জনসংযোগ করছেন ঘাসফুলের নেতারা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ এবং রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচার করা হচ্ছে।

কুণাল ঘোষ, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলছেন, ‘‘নিশ্চিতভাবে, বাংলা-বাঙালি-বাংলার ঐতিহ্য-ইতিহাস-সংস্কৃতি এবং যারা বিভিন্ন কারণে বহুদিন ধরে বা কাজের সূত্রে বাংলায় থাকে তাদের আপন করে নেয়। আবার বহু বাঙালিও দীর্ঘকাল অন্য রাজ্যে থাকে। আমরা এটুকু বলি যে আমরা এখানে সকলে, সব ভাষা, সব ধর্মের মানুষের সমান উন্নয়ন। দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেতা, আবার কটাক্ষ করে বলছেন, যারা বলে বিহার-ইউপির লোকরা গুণ্ডা, এরা এসে এখানে দাঙ্গা বাধায়, মারপিট করে। ভোট দেবে না। তাই বিহার থেকে নেতা আনতে হচ্ছে। কখনও বিহারিবাবু শত্রুঘ্ন সিনহাকে। কখনও কীর্তি আজাদকে নিয়ে আসতে হচ্ছে। ধার করে। যারা এতদিন গালাগালি দিয়েছে। যাদের বহিরাগত বলে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। যতই চালাকি করুন উনি, কীর্তি আজাদ বা শত্রুঘ্ন সিনহারা উন্নয়ন করবে না। করলে দিলীপ ঘোষরাই করবে।’’

হিন্দিভাষী ভোটার ফ্যাক্টর কতটা? কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘বিজেপি বাংলার সংস্কৃতিকে সম্মান করে না। উল্টোদিকা বাংলা সারা ভারতের সংস্কৃতিতে সম্মান করে। বিজেপি ভেদাভেদে বিশ্বাস করে, বাংলা সেটা করে না। যিনি বাংলায় কথা বলেন তিনিও জানেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মর্ম। যিনি হিন্দিতে কথা বলেন তিনিও জানেন। যিনি উর্দু ভাষায় কথা বলেন তিনিও জানেন। বিজেপি বারবার ধর্ম-ভাষায় ভেদাভেদের চেষ্টা করেন। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে এগুলো সফল হবে না।’’

পালটা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেন, ‘‘ভাষাভাষির ভিত্তিতে ভোট দেখার মানসিকতা তৃণমূলের আছে। বিজেপির নেই। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গের সব ভাষাভাষির মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিক। ডায়মন্ড হারবার মডেলে ভোট হলে তো ভাষাভাষি দেখার দরকার হয় না। কাউন্টিং হল থেকেই এজেন্ট বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এই ধরনের ভাবনা গুরুত্বহীন।’’

বাংলা খবর/ খবর/কলকাতা/

TMC-BJP: কতটা ফ্যাক্টর হিন্দিভাষী ভোট? ময়দানে দু’পক্ষই, কটাক্ষ আর পাল্টা কটাক্ষে জমজমাট রাজনীতি

Scroll to Top