Last Updated:
সংসারের চালাতে বিউটিশিয়ান কোর্স করেন। কিন্তু বিশেষভাবে সক্ষম এমন মেয়ের কাছে কেউ সাজতে আসবে কি?
লড়াকু শক্তি রায়।
দক্ষিণ দিনাজপুর, সুস্মিতা গোস্বামী: “তুমি তো ঠিক ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই পারো না।” কাজের খোঁজে বেরিয়ে ঠিক এমনই কথার সম্মুখীন হতেই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে তপন ব্লকের করদহ এলাকার ডুগডুগি হাটের বাসিন্দা শক্তি রায়ের। জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম শক্তি। বিগত প্রায় তিন বছর আগে বাবাকে হারিয়ে নিজের প্রতি বিশ্বাস, অদম্য মনের জোর আর কঠোর পরিশ্রমকে সম্বল করে একজন কোথায় পৌঁছতে পারেন, তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন তপন ব্লকের শক্তি রায়।
দুই পায়ে ঠিক মতন হাঁটতে পারেন না। তবুও মা বাবা শখ করে নাম রেখেছিলেন শক্তি। মা ও মেয়ের ছোট্ট সংসার। সেই সংসারের হাল ধরেছেন শক্তি নিজেই। কখনও মায়ের কোলে, আবার কখনও বাবার কোলে করেই স্কুলে যেতে হয়েছে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে লাঠির উপর ভর করে যাতায়াত শুরু করে শক্তি। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ার সময় সরকারি সাহায্যে একটি ট্রাই সাইকেল জুটেছিল কপালে। তারপর থেকে সেই সাইকেলে চেপে বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে যাতায়াত করত।
কিন্তু নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁর মনের জোরকে দমিয়ে দিতে পারেনি কেউ। শারীরিক ১০০ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম হয়েও অসম লড়াই করে স্নাতকস্তরে পাস করেছেন শক্তি। বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের ছোট্ট চায়ের দোকানটাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সংসারের খরচ সামলাতে সিদ্ধান্ত নেন বিউটিশিয়ান কোর্স করে সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু বিশেষভাবে সক্ষম এমন মেয়ের কাছে কেউ সাজতে আসবে কি? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল শক্তির মনে। এরপর একাধিক জায়গায় বিউটিশিয়ানের কোর্স করতে গিয়ে কটুক্তি শুনতে হয়েছে।
তবুও হার মানেন নি কখনও। সেই প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে বর্তমানে শক্তি সফল বিউটিশিয়ান। এলাকায় কোনও বিয়েবাড়ি কিংবা যে কোন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানেই তাঁর ডাক পরে। বর্তমানে সফলভাবে চলছে তাঁর বিউটিশিয়ানের ব্যবসা। পরিশেষে বলা যেতেই পারে, যেকোনও প্রতিবন্ধকতা জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে না। যা প্রমাণ করেছেন গ্রামীন মেয়ে শক্তি।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
September 04, 2025 11:44 PM IST



