Rasa Utsav 2025: শান্তিপুরের ভাঙা রাসে উপচে পড়ল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জনস্রোত, মুখ্য আকর্ষণ রাই রাজা

Rasa Utsav 2025: শান্তিপুরের ভাঙা রাসে উপচে পড়ল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জনস্রোত, মুখ্য আকর্ষণ রাই রাজা

Last Updated:

Rasa Utsav 2025: রাধার প্রতীক রূপে ব্রাহ্মণ পরিবারের কুমারী মেয়েদের রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত করে সিংহাসনে বসানো হয়। তারপর তাঁদের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করানো হয় হরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে

+

Rasa Utsav 2025: শান্তিপুরের ভাঙা রাসে উপচে পড়ল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জনস্রোত, মুখ্য আকর্ষণ রাই রাজা

শান্তিপুরের ভাঙা রাসের মূল আকর্ষণ রাই রাজা!

শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: শান্তিপুরের ভাঙা রাসে উপচে পড়া জনস্রোত, মুখ্য আকর্ষণ রাই রাজা। নদিয়ার শান্তিপুরে আয়োজিত হল ঐতিহ্যবাহী ভাঙা রাসের শোভাযাত্রা। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব ঘিরে এ বছরও ছিল চোখে পড়ার মতো উন্মাদনা। সন্ধ্যা নামতেই শহরের রাজপথে শুরু হয় মানুষের ঢল। রাই রাজাকে এক ঝলক দেখার জন্য শহরজুড়ে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। শহরের প্রতিটি মোড়, গলি ও রাস্তা জুড়ে আলোকসজ্জার আলোয় ঝলমল করছিল শান্তিপুর।

ভাঙা রাসের শোভাযাত্রার সূচনা হয় হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে। গোস্বামী পরিবারের বিগ্রহকে প্রথমে শোভাযাত্রায় আনা হয়, যা দেখতে রাস্তার দুই ধারে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। ঢাকের তালে আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। শোভাযাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল রাই রাজা! শান্তিপুরের এক পৌরাণিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

রাই রাজা প্রথায় রাধার প্রতীক রূপে ব্রাহ্মণ পরিবারের কুমারী মেয়েদের রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত করে সিংহাসনে বসানো হয়। তারপর তাঁদের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করানো হয় হরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে। ছোট্ট এই রাধাদের রাজকীয় সাজ, সোনালি পোশাক ও অলংকারে যখন সজ্জিত করা হয়, তখন দর্শকদের চোখে পড়ে এক অনন্য ভক্তির আবেশ। রাই রাজাদের শোভাযাত্রা যখন শহরের রাজপথে পরিক্রমা করে, তখন দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ তা একনজর দেখতে উন্মুখ হয়ে থাকে। বলা হয়, রাই রাজাকে দর্শন করলে জীবনে সৌভাগ্য আসে এই বিশ্বাসই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টেনে আনে ভক্তদের।

প্রথমে শান্তিপুরের বিভিন্ন গোঁসাই বা গোস্বামী পরিবারের বিগ্রহেরা একে একে অংশ নেন এই মহা শোভাযাত্রায়। পরে শহরের বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলি তাদের নিজস্ব প্রতিমা ও আলোকসজ্জা নিয়ে অংশগ্রহণ করে। একাধিক মডেল শিল্পী বহুরূপী ও বিশালাকার আলোকসজ্জা দিয়ে প্রতিটি বারোয়ারি নিজেদের শোভাযাত্রা বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলে।

এই বিশাল জনসমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহর জুড়ে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী, নজরদারির জন্য স্থাপন করা হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে সুষ্ঠুভাবে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করেন।

Scroll to Top