Last Updated:
Ovarian Cancer: ওভারির ক্যানসার বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার অনেকটা নীরব ঘাতকের মতোই। আর এটা হল সবথেকে মারাত্মক গাইনিকোলজিক্যাল ম্যালিগন্যান্সি। বিশ্বের প্রতি ১ লক্ষ মহিলার মধ্যে এই রোগের হার ৬.৭।

কলকাতা: ওভারির ক্যানসার বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার অনেকটা নীরব ঘাতকের মতোই। আর এটা হল সবথেকে মারাত্মক গাইনিকোলজিক্যাল ম্যালিগন্যান্সি। বিশ্বের প্রতি ১ লক্ষ মহিলার মধ্যে এই রোগের হার ৬.৭। আবার প্রতি ১ লক্ষ মহিলার মধ্যে এই রোগে মৃত্যুর হার ৪.০ শতাংশ। আসলে জেনেটিক বা জিনগত কারণ একটা বড় ভূমিকায় পালন করে। আবার ডায়েট সংক্রান্ত বিষয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যানসারের জন্য দায়ী, বিশেষ করে পশ্চিমী দুনিয়ার ক্ষেত্রে। চেন্নাইয়ের এসআইএমএস হাসপাতালের অঙ্কো সার্জেন ডা. প্রেমানন্দ এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
আর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ওভারিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের একটা যোগ রয়েছে। বডি মাস ইনডেক্স যদি বেশি হয় (বিএমআই >৩০), তাহলে এই রোগের ঝুঁকি ১২-১৩ শতাংশ বেশি থাকে। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং গ্লাইসেমিক লোড বিশিষ্ট ডায়েট হরমোনজনিত ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এবং তা ক্রনিক প্রদাহের জন্য দায়ী। যা ডিম্বাশয়ের কোষের বিকাশকে অস্বাভাবিক রকম বাড়িয়ে দিতে পারে। ২০০৮ সালের এক মেটা-অ্যানালিসিসে এই বিষয়ে প্রায় অকাট্য প্রমাণ মিলেছিল।
অতিরিক্ত পরিমাণে আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার সেবন ওভারিয়ান এবং ব্রেনের মতো একাধিক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির জন্য দায়ী হতে পারে। আবার ওভারিয়ান এবং ব্রেস্ট ক্যানসারে মৃত্যুর হারও অনেকাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে। আর্থ-সামাজিক-জনসংখ্যাগত কারণ, ধূমপানের অবস্থা, শারীরিক কার্যকলাপ এবং অন্যান্য প্রধান খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তনগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য করার পরেও এই সম্পর্কগুলি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
অন্যদিকে আবার নির্দিষ্ট ডায়েটারি উপাদান সুরক্ষা প্রদান করে। মেটা অ্যানালিসিসে দেখা গিয়েছে যে, ক্রুসিফেরাস শাকসবজি, ফলমূল এবং গ্রিন টি বেশি পরিমাণে সেবন করা হলে তা ওভারিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকি ১১-১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে লো-ফ্যাট ডায়েট কিন্তু আট বছরের পর থেকে ওভারিয়ান ক্যানসারের আশঙ্কা কমিয়ে দিতে পারে। যদিও ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত ফলাফল মিশ্র। কয়েকটি গবেষণায় বলা গচ্ছে যে, ডায়াগনোসিস হলে এটি বাঁচার হার অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। যেসব মহিলার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে রয়েছেন এবং যাঁদের কোমরের পরিধি ≤৮৮ সেমি, তাঁদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার নির্ণয়ের পরে মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
যদিও তথ্যের ঘাটতি এবং পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা এখনও বিদ্যমান, তবে পুষ্টিগত অঙ্কোলজির ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্রটি তুলে ধরে যে, প্রতিরোধমূলক কৌশলগুলি নৈশাহারের অভ্যাস থেকেই শুরু করা উচিত। জনস্বাস্থ্য বার্তায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক খাদ্যতালিকাগত ভারসাম্যকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার প্রতিরোধ এবং বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে প্রচার করতে হবে।
Kolkata,West Bengal