Midnight Rash Celebration: পূর্ণিমার মধ্যরাতে রাজপরিবারের কুলদেবতার নৌকাযাত্রা, বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নৈশ্যরাস

Midnight Rash Celebration: পূর্ণিমার মধ্যরাতে রাজপরিবারের কুলদেবতার নৌকাযাত্রা, বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নৈশ্যরাস

Last Updated:

ময়নাগড়ের রাসযাত্রা ৪৬৪ বছরে পদার্পণ করল। পূর্ণিমার মধ্যরাতে রাজপরিবারের কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউকে নিয়ে নৌকা যাত্রা, যা হাজার হাজার মানুষ রাসযাত্রা দর্শন করে আনন্দ উপভোগ করে।

X

Midnight Rash Celebration: পূর্ণিমার মধ্যরাতে রাজপরিবারের কুলদেবতার নৌকাযাত্রা, বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নৈশ্যরাস

ময়নাগড়ে নৈশ্য রাস 

ময়না: ময়নাগড়ের রাসযাত্রা এবছর ৪৬৪ বছরে পদার্পণ করল। কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউর রাসযাত্রার মূল আকর্ষণ হল শ্যামসুন্দর জিউ নৈশরাস যাত্রা করেন। পূর্ণিমার মধ্যরাতে রাজপরিবারের কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউকে নিয়ে নৌকা যাত্রা, যা হাজার হাজার মানুষ রাসযাত্রা দর্শন করে আনন্দ উপভোগ করে। ময়নার রাসমেলার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে শুধু ময়নাবাসী নয় জেলার অন্যান্য জায়গা সহ পার্শ্ববর্তী পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভিন রাজ্য ওড়িশা থেকেও মানুষজন এই রাস দেখতে ময়না করে উপস্থিত হন।

রাস উৎসবে পরম্পরা ধর্মীয় আচার অনুযায়ী শুক্লপক্ষের উত্থান একাদশীর তারিখ থেকে পরপর আট দিন ভোর রাতে শ্রী শ্রী শ্যাম সুন্দর জিউ রাজবাড়ির মূল মন্দির থেকে নৌকা বিহারে কালীদহের ৫০০ মিটার লাবণ্যময় জল পরিক্রমণ করে ময়না রাস মন্দিরে প্রবেশ করেন। কেবল মাত্র পূর্ণিমার দিন সন্ধ্যা ছয়টার পর আবারও মন্দির থেকে রাস যাত্রা শুরু করেন। রাজবাড়ির কূল দেবতা শ্যাম সুন্দর। অন্যান্য জায়গায় পাঁচ দিনের রাসযাত্রা হলেও, ময়নাগড় রাজবাড়ির কূলদেবতার আট দিনের রাসযাত্রা হয়। শেষ রাস যাত্রার বিকেলে ঢাক ঢোল কীর্তন, আতশবাজি, বাতাসা লুট সহযোগে রাস মন্দির থেকে নৌকা বিহারে রাজবাড়িরমূল মন্দিরে প্রত্যাবর্তন হবে। ঠাকুরের নৌকা বিহার বন্ধ হলেও মেলা চলবে আরও এক সপ্তাহ।

আরও পড়ুনKasba shootout update: জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই তৃণমূল কাউন্সিলারকে খুনের চেষ্টা! ধৃতের বয়ানে চাঞ্চল্য 

প্রাচীন ময়নাগড় রাজবাড়ির কূলদেবতা শ্যামসুন্দর জিওর এই রাসের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল নৈশ নৌবিহার। প্রতিদিন ভোররাতে সুসজ্জিত নৌকায় করে কলিয়াদহ পরিখার জলে নৌ বিহার করে রাস মঞ্চে আসেন। ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস মঞ্চে থেকে দেবতার পুজো পাঠ ও বিভিন্ন রীতিনীতি পালন করা হয়। এই রাস যাত্রা উপলক্ষে ময়নায় ১৭ দিনব্যাপী রাস মেলা বসে। ময়নার রাস মেলার অন্যতম আকর্ষণ থালার মত বড় বড় বাতাসা ও ফুটবলের মতো কদমা মিষ্টি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নাগর রাজ উৎসব জেলাতে তারা রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন একটি মেলা। এই মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল স্থানীয় হস্তশিল্প ও লোকশিল্পকে প্রাধান্য দেওয়া। ২০২৪ এর রাস মেলার উদ্বোধন করেন ময়নাগর রাজ পরিবারে সদস্য প্রণব বাহুবলীন্দ্র। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন ও বৃহত্তম রাস মেলা শুধু ময়নাবাসী নয়, জেলার অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পশ্চিম মেদিনীপুরের লোকেরাও সারা বছরে অপেক্ষা করে থাকেন। আধ্যাত্মিকতা ও রাসযাত্রার পার্থিব অপার্থিব সুন্দরের মেলবন্ধন নবদ্বীপ রাসযাত্রার পর ময়নাগড়ের রাসযাত্রা বিশেষ ভাবে উল্লেখ্যযোগ্য।

সৈকত শী

Scroll to Top