Last Updated:
Historical Tour In West Bengal: লুকোচুরি দরজা বা গেট যা আজও ধ্বংসাবশেষ অবস্থায় দাঁড়িয়ে মালদহের গৌড় নগরীর প্রবেশপথে। মুঘল শাসনকালে সম্রাট শাহাজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজা দ্বারা নির্মিত এই প্রবেশদ্বার আজও সাক্ষী একাধিক ইতিহাসের।
মালদহের গৌড়ে অবস্থিত লুকোচুরি গেট
মালদহ: প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর একাধিক স্থাপত্য নির্মাণ করা হয়েছিল বহু শাসক দ্বারা। সেই সঙ্গে গৌড় নগরীর রাজপ্রাসাদকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল দুর্গ। আর সেই চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছিল একাধিক প্রবেশদ্বার। সেই প্রবেশদ্বারগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল লুকোচুরি দরজা বা গেট যা আজও ধ্বংসাবশেষ অবস্থায় দাঁড়িয়ে মালদহের গৌড় নগরীর প্রবেশপথে। মুঘল শাসনকালে সম্রাট শাহাজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজা দ্বারা নির্মিত এই প্রবেশদ্বার আজও সাক্ষী একাধিক ইতিহাসের।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ভারত উপমহাদেশে মুঘল রাজত্বকালে বাংলা ও ওড়িশার সুবেদারের দায়িত্বে ছিলেন সম্রাট শাহাজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজা। সেই সময় তার শাসন ব্যবস্থার অন্যতম কার্যালয় ছিল প্রাচীন এই গৌড় নগরীতে। সুবেদার থাকাকালীন তিনি রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তার স্বার্থে গৌড় নগরীর দক্ষিণ দিকে তৈরি করেছিলেন এই প্রবেশদ্বার।
ইতিহাসবিদ এম আতাউল্লাহ জানান, “প্রায় ১৬৫৫ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এই প্রবেশদ্বারটি। অনেকের ধারণা এই প্রবেশদ্বারটি লুকোচুরি নামকরণ লুকোচুরি খেলার জন্য। তবে লুকোচুরি খেলার জায়গা নয়। এটি মূলত গৌড় নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম অংশ। প্রায় ৬৫ ফুট উচ্চতা এবং ৪২ ফুট চওড়া এই রাজকীয় প্রবেশদ্বার মূলত ব্যবহৃত হত গৌড় নগরীতে আসা বিশেষ অতিথিদের জন্য। সেই সঙ্গে গৌড় নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই প্রবেশদ্বারে সর্বক্ষণ নজরদারিতে থাকত প্রহরীরা।”
এই প্রবেশদ্বারের চারপাশে ছিল সৈন্য ও প্রহরীদের থাকার ব্যবস্থা। এবং এর দ্বিতীয় তলায় নির্মাণ করা হয়েছিল একটি নাক্কার খানা যেখানে বাদ্যযন্ত্র ঢোল পিটিয়ে জানান দেওয়া হত সময়ের। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে শাসন ব্যবস্থা ও শাসক। বর্তমানে মালদহের গৌড় নগরীর অধিকাংশ স্থাপত্য ধ্বংসাবশেষ অবস্থায়।
JM Momin
Kolkata,West Bengal
November 07, 2025 11:26 PM IST



