Last Updated:
তিস্তাপাড়ের বসুনিয়া বাড়িতে দুর্গা পূজিত হন একেবারে রাজবংশী গৃহবধূ রূপে। পাটানি শাড়ি, সরল সাজ, মুখে মঙ্গোলীয় ছোঁয়া এখানে দেবী ঘরের মেয়ে। আড়াই পাক লাঙ্গল কাটার পরই যাত্রার সমাপ্তি। প্রায় ২০০ বছরের এই পূজা আজও স্থানীয় মানুষের মিলনমেলা, ভোগ ভাগাভাগির আনন্দে ভরপুর।
তিস্তাপাড়ে এখনও ঘরের মেয়ে দুর্গা
জলপাইগুড়ি, সুরজিৎ দে: আড়াই পাক লাঙ্গল কেটেই যাত্রার শেষ হয় এই দুর্গা পুজোর। রাজবংশী ঘরের গৃহবধূ রূপে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। বাঁধাধরা দূর্গা প্রতিমা থেকে পাটানি শাড়িতে এক্কেবারেই ভিন্ন সাজে সেজে ওঠে জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বসুনিয়া বাড়ির দুর্গা! প্রতি বছরের মতোই এ বছরও তিস্তাপাড়ের বসুনিয়া বাড়িতে শুরু হয়েছে দেবী বরণের আয়োজন। কৈলাস থেকে এখানে দেবী আসেন অন্য রূপে—রাজবংশী বধূর সাজে।
মুখে মঙ্গোলীয় জনজাতির ছোঁয়া, সাজে গ্রামীণ সরলতার আভা। সোনার গহনার চাকচিক্য নেই, দেবী সেজেছেন একেবারে ঘরের মেয়ে হয়ে। ময়নাগুড়ির আমগুড়ি বাজার সংলগ্ন বসুনিয়া পরিবারের দাবি এই পূজা প্রায় ২০০ বছরের উপরে পুরনো। রাজবংশী সমাজে দুর্গা পরিচিত ‘দেবী ঠাকুরানি’ নামে, আর আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সেই নামেই আজও পূজিতা তিনি।
পরিবারের কর্তার নির্দেশে প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন শিল্পীরা। বর্ণ রক্তিম, সাধারণ পাটানি শাড়ি, চোখ-নাক-মুখে যেন তিস্তাপাড়ের গৃহবধূ। মৃৎশিল্পীর কথায় “এক চুল এদিক-ওদিক হলেই আবার নতুন করে গড়তে হচ্ছে। কারণ এ দেবী সবার কাছে ঘরের মেয়ে।” কিন্তু কেন এই রূপে পূজিতা হন দেবী?
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, জনশ্রুতি অনুযায়ী, একসময় ময়নাগুড়ি ছিল জঙ্গলে ঘেরা, চাষবাসই ছিল একমাত্র ভরসা। তাই ঘরের মেয়ে ভেবে বরণ করার আবেগ থেকেই এমন পুজো। একইসঙ্গে এই পুজা কেবল পারিবারিক নয়, স্থানীয় মানুষেরও। আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ভিড় জমান ঠাকুরানির দর্শনে। পুজো শেষে ভোগের থালায় ভাগ বসে সবার।
সময়ের পালাবদলে অনেক কিছুই বদলেছে। কিন্তু তিস্তাপাড়ের এই বসুনিয়া বাড়িতে এখনও পূজিত হন দেবী দুর্গা গৃহস্থের গৃহবধূ রূপে, মানুষের মনে এক অনাড়ম্বর ভালবাসার প্রতিচ্ছবি হয়ে! এখানে লাঙ্গল চাষের পরেই চাষাবাদ শুরু হয় গোটা গ্রামে এবং ভালো ফসল হয় গোটা গ্রামে আড়াই লাঙ্গলের শেষ চাষ দেখা যাত্রার সময়।
Kolkata,West Bengal
September 05, 2025 12:20 AM IST



