Last Updated:
সকালে মাছ ভাত,দুপুর ও রাত্রে মাংস ভাত,এমন ভাবেই আট বছর ধরে বিড়াল পুষে আসছেন বীরভূমের বাসিন্দা
বিড়াল
বীরভূম,সৌভিক রায়: অনেক মানুষই বাড়িতে পোষ্য রাখতে ভালবাসেন। শহুরে মানুষদের মধ্যে কুকুর ও বিড়াল পোষার চলই বেশি দেখা যায়। বাড়িতে বাড়িতে বিড়াল পোষার খুব চল রয়েছে বহুদিন থেকেই। আদুরে প্রাণী বিড়ালকে কেউ যদি নিজে থেকে বাড়িতে না-ও আনেন, তা-ও সে ঠিক গেরস্থের বাড়িতে নিজের আস্তানা বানিয়ে নেয়। দু’বেলা দু’মুঠো মাছ-ভাত আর শোয়ার জন্য একটু জায়গা পেলেই সে খুশি।
তবে বীরভূমের এই বাসিন্দা প্রায় ২২টি বিড়ালের সঙ্গেই সংসার করছেন! প্রতিদিন হাজার টাকা খরচ করে ব্যতিক্রমী ‘বিড়াল প্রেমী’ বীরভূমের রাজগ্রামের মাকসোদুল! বীরভূমের মুরারই এক নম্বর ব্লকের রাজগ্রাম ভিলেজের বাসিন্দা মাকসোদুল হাসান খানের কাছে বিড়াল শুধু পোষা প্রাণী নয় পরিবারের সদস্য। গত আট বছর ধরে ছাদে বিড়াল পুষে আসছেন তিনি। বর্তমানে তার বাড়িতে রয়েছে মোট ২২টি বিড়াল। নতুন নতুন বিড়াল আসতেই থাকে, আবার অনেক বিড়াল সময়ে সময়ে বাচ্চাও দেয়। সম্প্রতি একটি বিড়ালই ১০টি বাচ্চা প্রসব করেছে।
বিড়ালদের প্রতি এই ভালবাসা নিছক শখ নয়, বরং দৈনিক ব্যয়বহুলও বটে। নিজের মুখে মাকসোদুল জানান, “প্রতিদিনই বিড়ালগুলোকে মাছ–মাংস খাওয়াই। প্রায় হাজার থেকে ১১০০ টাকা খরচ হয়ে যায় বিড়ালের পেছনে। বিড়াল আমায় খুব ভাল লাগে।” বাড়িতে এতগুলো বিড়াল থাকা সত্ত্বেও মাকসোদুল ও তার স্ত্রী কোনও দিন বিরক্ত হন না। বরং বিড়ালদের সঙ্গে আনন্দেই কাটে তাঁদের দিন।
তাদের মতে, এই প্রাণীগুলোই তাদের মানসিক শান্তি ও ভালবাসার উৎস। গ্রামে অনেকেই অবাক হন এতগুলো বিড়াল একসঙ্গে দেখে। আবার কেউ কেউ প্রশংসাও করেন তাদের এই মানবিকতা ও ভালবাসার। মাকসোদুল বলেন, “যতদিন পারি ওদের ভালবাসা দেব। ওরা আমাদের পরিবারের অংশ।” মানুষের কাছে বিড়াল শুধু পোষা প্রাণী, কিন্তু মাকসোদুলের চোখে সেই সব বিড়াল তারা পরিবার। তাদের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালবাসা সত্যিই বিরল উদাহরণ।
Kolkata,West Bengal
November 07, 2025 12:07 AM IST



