
এরপরও এই বিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়। যাত্রীসাথী অ্যাপের মাধ্যমে বাসের গতি ও যাত্রাপথের নজরদারি-সহ একাধিক বিষয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর হয়নি কিছুই। ফলে রাশ টানা যাচ্ছে না দুর্ঘটনার সংখ্যায়। গত বছরের শেষদিনে ঘটেছে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু। চলতি বছরের ১০ তারিখে ফের বড়বাজারের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলার। গতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কাজ করছিল খড়্গপুর আই.আই.টি।
আরও পড়ুন: বাজার থেকে ভুলেও কিনবেন না এই ৫ মাছ! ভেতরে গিয়েই ঝাঁঝরা করছে শরীর
তাদের অধ্যাপক ভার্গব মৈত্র জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সেফ জোন চালু করেছে। কোথায় কত গতি থাকবে তা অনেকদিন ধরেই সমীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আশা করব, রাজ্যের আদেশ গাড়ি চালকরা পালন করলে, দূর্ঘটনা রুখতে পারা যাবে।
এই প্রসঙ্গে খড়্গপুর আই আই টি, যে কারণ চিহ্নিত করেছিল দূর্ঘটনার, সেগুলো হল,
১) চালকদের অনেকেই আছেন, যাঁদের হাইওয়ে ধরে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নেই।
২) রাস্তায় যথাযথ নির্দেশিকা নেই। ফলে পথচারী বা গাড়ি চালক কেউই জানেন না তাঁদের যাতায়াতের উপায় কী?
৩) গতি যথাযথ নয়। সেই গতি রাস্তা ধরে ধরে ঠিক করতে হবে।৪) VIP বা VVIP গাড়ির ড্রাইভাররা ভাবছেন, তাঁদের পুলিশ ধরবে না। ফলে তাঁরা রিস্ক নিয়ে বেরোচ্ছেন।
৫) অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের গাড়ির চালকও জানেন, তাঁরা গতি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যেখান দিয়ে বেরোচ্ছেন, সেখানে আদৌ ওই গতিতে যাওয়া যাবে কিনা সেটা তাঁরা জানেন না।
৬) বারবার বলার পরেও পথচারীরা সচেতন নন। গাড়ির সামনে দিয়েই তাঁদের দৌড় চলে।
৭) জাতীয় সড়ক ধরে টোটো যাচ্ছে। জাতীয় সড়ক ধরে তীব্র গতিতে যাচ্ছে মোটরবাইক। এগুলো যে স্লো মুভিং ভেহিক্যালস করিডর নয়, সেটা তাঁরাও বুঝছেন না। এমনকি ভ্যানও যাচ্ছে হাইওয়ে দিয়ে
৮) হাইওয়ে মানেই ১০০ কিমি/ঘণ্টা এই ধারণ হয়ে আছে। কিন্তু সেই হাইওয়ে জনবহুল এলাকা ধরে গেলে সেটা তো আর ১০০ কিমি/ঘণ্টা গাড়ি যাওয়ার নয়।৯) জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ একাধিক জায়গায় রাস্তা চওড়া করছে। কিন্তু সেই হাইওয়ের পাশে একাধিক স্কুল থাকছে। তা নিয়ে ভাবনা নেই। (ডানকুনি থেকে খড়গপুর এই অংশে প্রায় ৮০টি স্কুল আছে)
আরও পড়ুন: ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা? চিবিয়ে খান এই একটি পাতা, ম্যাজিকের মতো কমবে! বাড়তি পাওনা হজম বৃদ্ধি
১০) গ্রামে স্টেট হাইওয়ে দারুণ হয়েছে। ফলে গাড়ি চলছে দ্রুত। আর এই রাস্তাতেই উঠে পড়ছে সাইকেল। নজরদারি নেই। তাই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হচ্ছে।
১১) গাড়ির দেরি হচ্ছে এটাই ভাবনাচিন্তা। মানুষের কী কী ক্ষতি হচ্ছে সেটা দেখা হচ্ছে না।৩০ কিমি সর্বনিম্ন ও ৫০ কিমি সর্বোচ্চ। এলিভেটেড করিডরে গতি বাড়ানো যায়। কারণ ওখানে সাইকেল বা ট্রাক ওঠে না। টু-হুইলার ৫০ কিমি/গতি বেঁধে রাখা উচিত। রাতের দুর্ঘটনার কারণ হল দৃশ্যমান্যতা কম। আলো ও রিফ্লেক্টর যথাযথ প্রয়োজন।
Kolkata,West Bengal
January 14, 2025 11:08 AM IST