কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সেবাগ্রহীতাকে কক্ষে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম রবিন নামের ওই ব্যক্তি তার বোনের নতুন ভোটার নিবন্ধনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য বারবার হয়রানির শিকার হওয়ার পর প্রতিবাদ করায় এই লাঞ্ছনার শিকার হন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী রবিন জানান, তার বোন মোসা. সুমাইয়া আক্তার স্বপ্নার ভোটার নিবন্ধনের আবেদন শুনানির জন্য তারা বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে যান। রবিনের অভিযোগ, কাগজপত্রের ভুলগুলো একবারে না জানিয়ে প্রতিবার নতুন নতুন ত্রুটির কথা বলে তাদের দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছিল। বারবার সব ত্রুটি একসঙ্গে জানানোর অনুরোধ করলেও কর্মকর্তারা তা শোনেননি।
বুধবার সকালে আবারও একটি নতুন ত্রুটির কথা বলা হলে রবিন এর প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে অফিসের পরিস্থিতি ভিডিও করতে গেলে কর্মচারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামের কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে কিল-ঘুষি মারা হয়। এই সময় সিসিটিভি ক্যামেরাতেও মারধরের দৃশ্য ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম ভিন্ন দাবি করেছেন। তার মতে, রবিনের বোনের কাগজপত্রে অন্তত তিনটি জায়গায় অসঙ্গতি ছিল। সেগুলো সংশোধন করতে বলা হলে রবিন নিজেই কর্মচারীদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি একে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ধস্তাধস্তি’বলে মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, সেবাগ্রহীতার আচরণ সঠিক না হলেও তাকে এভাবে মারধর করা মোটেও ঠিক হয়নি। পুরো ঘটনার দায় নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



