
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর জেগে ওঠার দাবি করেছেন এক পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনাকে অলৌকিক বলে প্রচার করা হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কবর দুটি দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক ও বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তির আশায় সেখানে ছুটে আসছেন নারী-পুরুষ। তবে স্থানীয় কেউ কেউ ঘটনাটিকে ভুয়া বলে দাবি করছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে ধ্যানে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। প্রতিদিন তাঁর কাছে ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
সজীবের পরিবারের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তাদের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। একই দিন রাত ১২টার দিকে সেটির পাশে আরেকটি কবর দেখা যায়। তাদের দাবি, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাড়িটিতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। কবর দুটি দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্য লাভের আশায়ও অনেকে সেখানে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে থাকা কবর দুটি নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কবর প্রায় দুই হাত এবং অন্যটি তিন হাত লম্বা। কবর দুটির পাশে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
সজীবের বাবা ছালাম বেপারীকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার মা শিউলী বেগম বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হননি। ছয় মাস আগে স্বপ্নে নির্দেশনা পেয়ে নিজ বাড়িতে ধ্যানে বসেন। এরপর তিনি সুস্থ হন এবং অন্যদেরও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।
সজীব বেপারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধ্যানে বসে মানুষকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তিনি। হঠাৎ গত ২৬ অক্টোবর সকালে তাঁদের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর দেখা যায়। একই দিন রাতে সেখানে আরেকটি কবর দেখা যায়। তার দাবি, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, পুরো ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


