
ওয়াশিংটন, ২৪ অক্টোবর-মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অব্যাহত হুমকির মধ্যে চলতি সপ্তাহে ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন দূত। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি টম ব্যারাক এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নাউফালকে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে হামলা হতে পারে কি না—অবশ্যই হতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরে থাকা অবস্থায় এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাক বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুবই স্পষ্টবাদী’। তিনি একটি চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী এবং প্রস্তুত। আমরা দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আলোচনার টেবিলে রয়েছি। ট্রাম্পের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু ব্যারাকের এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ট্রাম্প।
ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সে কি আমার রাষ্ট্রদূত? আমার মনে হয়, সে বেশ প্রভাবশালী একজন মানুষ। এমন কিছু হয়ে থাকলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী মঙ্গলবার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি বারবার ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করার অঙ্গীকার করেছেন।
কূটনৈতিক অচলাবস্থার দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর ট্রাম্প আবারও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এমন কিছু ঘটবে না। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিপরীতে ব্যারাক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করতে চায় না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে পশ্চিমাপন্থী শাহের শাসনের পতনের পর থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোর শত্রু হিসেবে পরিচিত।
ব্যারাক বলেন, যদি আপনারা বিশ্ব, আমাদের মিত্রদের এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকেন, তাহলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে সেই পরিণতি মানেই যে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ হবে, তা নয়। ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই বলেছেন, তিনি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চান না।
ব্যারাক আরও বলেন, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবসময়ই একটি বড় প্রশ্ন থেকে যায়। আর তা হলো, পরিবর্তনের পরের পরিস্থিতি বা ‘দ্বিতীয় দিনের’ চিত্রটি কেমন হবে?
এদিকে, কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে নতুন করে হামলা চালানো হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির নেতারা।
এস এম/ ২৪ অক্টোবর ২০২৬


