শারদীয় উৎসবে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি হওয়ার উন্মাদনা – Sarabangla

শারদীয় উৎসবে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি হওয়ার উন্মাদনা – Sarabangla

ঢাকা: শারদীয় দুর্গোৎসবের বর্ণিল আলোয় সেজে উঠেছে দেশজুড়ে হাজারো পূজা মণ্ডপ। ঢাকের তাল, ধূপের সুবাস আর কাঁসরের ঝংকারে চারদিকে এখন উপচে পড়া আনন্দ। তবে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি এবারের উৎসবে চোখ পড়ার মতো বড় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে ছবি তোলার আমেজ। আলোকসজ্জায় ঝলমলে মণ্ডপের ভেতরে কিংবা বাইরে-যেদিকেই চোখ যায়, সব বয়সের মানুষের হাতে হাতে রঙিন মুহূর্তে বন্দি হওয়ার এক দারুণ ব্যস্ততা।

শারদীয় উৎসবে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি হওয়ার উন্মাদনা – Sarabangla

মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হওয়া শারদীয় উৎসবের আনন্দ যেন পূর্ণতা পায় ক্যামেরার ক্লিক আর সেলফির ফ্রেমে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, বনানী পূজা মণ্ডপ কিংবা ধানমণ্ডির বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা দর্শনের চেয়েও দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশের মূল আকর্ষণ-সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার মতো আকর্ষণীয় একটি ছবি বা রিলস তৈরি করা।

বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার নিয়ে মণ্ডপে ঘুরতে আসা তরুণ শিক্ষার্থী শাহীন আহমেদ বলেন, ‘পূজা মানেই তো এক অন্যরকম উৎসবের আমেজ। সারা বছর তো আমরা এমন সাজপোশাক করি না। তাই সুন্দর পোশাক পরে মণ্ডপে এসে ক্যামেরাবন্দি না হলে যেন পূজার আমেজটাই জমে না! ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার জন্য আজকের এই স্মৃতিগুলো ফ্রেমবন্দি করে রাখাটা দারুণ ব্যাপার।’

বান্ধবীদের সাথে পূজার মণ্ডপে ঘুরে ঘুরে নিজের সুন্দর একটা সুন্দর ছবি তোলায় ব্যস্ত অরুনিমা রায়। ছবি তোলা শেষে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূজার মণ্ডপে গিয়ে গিয়ে নতুন ড্রেস পরে ছবি তোলার বিষয়টাই আলাদা। সেইসঙ্গে আমাদের মাঝে কার ছবি সবচেয়ে বেশি ভালো হয়েছে সে বিষয়েও চলে অনেক কিছু। পুজোয় এমন ছোট ছোট বিষয়গুলো আনন্দ উৎসবকে আরও বেশি রাঙিয়ে তোলে।

শুধু তরুণ-তরুণীরাই নন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মধ্যবয়সি গৃহিণী ফাহমিদা সুলতানাও বলেন, ‘আগে তো শুধু মনে রাখার স্মৃতি ছিল, এখন ফোনের কল্যাণে ছবি তুলে মুহূর্তগুলো ধরে রাখা যায়। ছোট বাচ্চাদের সাজিয়ে এনেছি, তাদের সাথে মায়ের প্রতিমার সামনে কয়েকটি সুন্দর ছবি তুললাম। এই ছবিগুলোই আগামী দিনে আমাদের সুন্দর স্মৃতির অ্যালবাম হয়ে থাকবে।’

তবে এই ছবি তোলার অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে, সে বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। প্রবীণ দর্শনার্থী সুশীল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগেকার দিনে মণ্ডপে এসে প্রতিমা দেখে মনে একটা অন্যরকম শান্তি আসত, প্রণাম করা হতো। এখন দেখি অনেকেই দেবীর সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ পোজ দিয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকেন, যার কারণে পেছনের লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে যায়।’

প্রযুক্তির যুগে উদ্‌যাপনের ভাষা বদলেছে ঠিকই, কিন্তু উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই চিরাচরিত সুর রয়ে গেছে একই। ক্যামেরার লেন্স বা ফোনের স্ক্রিনে তোলা একেকটি স্ন্যাপশট কেবল ডিজিটাল ফাইল হয়ে থাকছে না বরং শারদীয় উৎসবের রঙিন দিনগুলোকে পরম মমতায় ধরে রাখছে আগামীর মধুর এক স্মৃতির দলিল হিসেবে।

Scroll to Top