
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন, মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি মামলার নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আলোচিত এ তিনটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের অবকাশকালীন ছুটি শেষে কার্যক্রম শুরু হলে মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আলোচিত তিন মামলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলা: ১৭ নভেম্বর, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা: ২৪ নভেম্বর, মেজর সিনহা হত্যা মামলা: ১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশজুড়ে আলোচিত এ তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণার পর হাইকোর্টেও আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি সম্পন্ন হয়। হাইকোর্টের রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য দণ্ড বহাল রাখা হয়। এরপর মামলাগুলো আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
২০১৪ সালের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ১৫ জনের সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে টেকনাফ থানার তৎকালীন বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। মামলাটির আপিলও বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালের অক্টোবরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও এখন আপিল বিভাগের শুনানির ওপর নির্ভর করছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

