
আন্তর্জাতিক আদালতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ ও ‘নেতিবাচক ও নিষ্ঠুর’ বলে সমালোচনা করেছেন নোবেল জয়ী নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক এই প্রধান। একই সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সোমবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পিল্লাই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।
পিল্লাই একসময় আইসিসির বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আদালতটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করা হলে তার প্রভাব শুধু একটি দেশ বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পুরো বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধানদের একটি বিশেষ দায়িত্ব হলো নীতিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা, আর তা হলো আইনকে সম্মান করা, আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা।’
পিল্লাই দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক আদালত ও আইনি ব্যবস্থা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, শুধু বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতি নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়, এমন শক্তিশালী দেশগুলোর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন পিল্লাই। তিনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কথা উল্লেখ করেন। দেশ দুটি আইসিসির সদস্য না হলেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ভোগ করে।
পিল্লাইয়ের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে শক্তিশালী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, দায়মুক্তি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং মানুষ ন্যায়বিচার চায়।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলবিষয়ক জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে কমিশনের অনুসন্ধানের কারণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমিশন গত বছর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে গাজায় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই সিদ্ধান্তের আইনি অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ মূল সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। গণহত্যার অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক আদালতের চূড়ান্ত রায় এক বিষয় নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেরও সমালোচনা করেছেন।
পিল্লাইয়ের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা রক্ষার দায়িত্ব শুধু আদালতের নয়, রাষ্ট্রগুলোরও। তার মতে, আইনের শাসন কার্যকর রাখতে হলে শক্তিশালী দেশগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

