ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর অব্যাহত হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দেশটিজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এয়ার ডেটা নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিমানবন্দরটিতে পরিদর্শন ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজ চলায় জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিসিএএ) সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিতের এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।
তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের উপাত্ত অনুযায়ী, সোমবার সৌদি আরবের ১ হাজার ৪৮টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে ৪৮৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা তাদের দৈনিক সূচির প্রায় ৪৬ শতাংশ। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে রোববারের প্রায় সব ফ্লাইট এবং সোমবারের আনুমানিক ৭৮ শতাংশ সেবা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো।
উদ্ভুদ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে। লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর এবং এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত রিয়াদগামী পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।
এছাড়া ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত, ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ফ্লাইদুবাই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইন্স আগামী ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের আটলান্টা-রিয়াদ পথ চালুর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছে।
কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবরের হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন এবং পরদিন টার্মিনাল ৪-এ অপর এক প্রক্ষেপকের আঘাতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও ১১ জন আহত হন। সৌদিয়ার একটি এয়ারবাস এ৩২০ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।
আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর (এফসিডিইউ) তাদের নাগরিকদের বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা জর্ডান হয়ে সড়কপথে দেশ ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফএএ এবং ইউরোপের ইএএসএ বেসামরিক বিমান চলাচলে ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে।



