
তেল আবিব, ১০ অক্টোবর-ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের স্বার্থের পক্ষে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান। তাঁর মতে, ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লক্ষ্যও বাস্তবসম্মত নয়।
ইয়ার গোলান বলেন, আলী খামেনি হত্যার যোগ্য ছিলেন কি না, সেটি তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় নয়। বরং তাঁকে হত্যা করে ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বার্থ কতটা অর্জিত হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, নিঃসন্দেহে আলী খামেনিকে হত্যা করা ছিল একটি ভুল। তিনি মৃত্যুর যোগ্য ছিলেন না বলে নয়; বরং এই পদক্ষেপ ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করেনি।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, হামলায় আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় ইরানের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও নিহত হন।
আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। ধারণা করা হয়, নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বাবার তুলনায় ঝুঁকি নিতে বেশি আগ্রহী। ফলে ইরানের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন দেশটির নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইরান সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যও অবাস্তব
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গোলান। তাঁর মতে, এই লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়।
গোলানের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া এবং দেশটির সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করা এক বিষয় নয়। কোনো নেতাকে হত্যা করলেই যে একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসা ইরানের নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। ফলে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্ব ও সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা কতটা অর্জন করা সম্ভব, সে প্রশ্নও উঠছে।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলী খামেনির অবস্থান
আলী খামেনি ২০০৩ সালে একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এ ধরনের অস্ত্র ইসলামের বিধান ও নীতির পরিপন্থী।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ায় ইরানের পারমাণবিক নীতি এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গোলানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য, ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলী খামেনিকে হত্যা করলেও ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ নিশ্চিত হয়েছে, এমনটি বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ইরান সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য অর্জন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
এস এম/ ১০ অক্টোবর ২০২৬


