মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে, সংবাদ সম্মেলন সৈয়দ ইউনূসের: লংগদু উপজেলা যুবদলের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে!

এবি এস মামুন, লংগদু (রাঙামাটি): ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম আর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যখন রাঙামাটির লংগদু উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ ইউনুছকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হলো, তখন রাজনীতির মাঠ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে নীরব থাকেননি ইউনুছও। পাল্টা জবাবে তৎক্ষণাৎ সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রতিপক্ষের সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

রাঙামাটি

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় লংগদু প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন উপজেলা যুবদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। সেখানে লিখিত বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈয়দ ইউনুছ দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে—তাদের নিজেদের অতীতই নানা অপরাধে কলঙ্কিত।

প্রতিপক্ষের মুখোশ উন্মোচন করে ইউনুছ বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে যারা আমার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল, তারা মূলত অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। গুলশাখালী ইউনিয়নের বহিষ্কৃত যুবদল আহ্বায়ক নুর আলম, লংগদু ইউনিয়নের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব ফয়েজ, ভাসান্যাদম ইউনিয়নের আহ্বায়ক জাবেদ এবং মাইনী ইউনিয়নের আহ্বায়ক রুহুল আমিনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্বরা নিজেরা অপরাধে জড়িয়েই শৃঙ্খলা হারিয়েছেন।”

ঘটনার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে সৈয়দ ইউনুছ আরও জানান, গতদিন গুলশাখালী ইউনিয়নের সাবেক বহিষ্কৃত আহ্বায়ক নুর আলম মনগড়া একটি পকেট কমিটি বানিয়ে তাঁর কাছে অনুমোদনের জন্য আসে। কিন্তু কেন্দ্র ও জেলা যুবদলের কড়া নির্দেশনা থাকায় তিনি সেই অবৈধ কমিটিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুর আলম তাঁর ওপর চড়াও হতে যায়। ইউনুছ স্পষ্ট জানান, স্বচ্ছতার সাথে সংগঠন পরিচালনা করার কারণেই অসাধু চক্রটি তাঁর ওপর ক্ষেপেছে এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানহানি করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঙ্কারও দেন তিনি।

একই সংবাদ সম্মেলনে লংগদু ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ফয়েজের প্রসঙ্গ টেনে ইউনুছ বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর দায়ে বিএনপি ফয়েজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। সেখানে আমাকে কেন টানা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।”

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ইউনুছের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন গুলশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরামন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সৈয়দ ইউনুছের বিরুদ্ধে যেসব অনৈতিক ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের গল্প ফাঁদা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা এসব বলছে, তারা নিজেরাই নানা অনৈতিক কাজে লিপ্ত। আমরা এ জাতীয় অপপ্রচারের তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানাই।”
সব মিলিয়ে, পাল্টাপাল্টি এই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে লংগদু উপজেলা যুবদলের ভেতরের কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতুহল ও চাঞ্চল্য।

Scroll to Top