মহালয়া আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাতাসে এক অদৃশ্য সুবাস টের পাওয়া যায়। পিতৃপক্ষের শেষ দিনে তর্পণের মধ্য দিয়ে পূর্বপুরুষদের বিদায় জানিয়ে শুরু হয় মহাশক্তির আরাধনা, অর্থাৎ দেবীপক্ষের ক্ষণগণনা। মহালয়া মানেই কেবল পূজোর কাউন্টডাউন নয়; এটি একই সঙ্গে মনকে শান্ত করার এবং ঘরদোরকে নতুন আলোয় সাজিয়ে তোলার এক অপূর্ব সময়। পূজোর কেনাকাটার হড়োহড়ি বা মণ্ডপে ঘোরার ক্লান্তি শুরুর আগে, এই দিনটি আমাদের সুযোগ দেয় অন্দরমহল ও মনকে ছিমছামভাবে গুছিয়ে নেওয়ার।
আত্মিক প্রস্তুতি
উৎসবের ঠিক আগে মনটাকে একটু শান্ত করা জরুরি। মহালয়ার ভোরে রেডিও বা ডিভাইসে যখন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ বাজে, তখন তা শুধু কান জুড়ায় না, বরং মনের ভেতরে জমে থাকা সমস্ত ক্লান্তি ও নেতিবাচকতা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেয়। এই বিশেষ দিনটিতে একটু সময় বের করে নিজের সঙ্গে কাটানো যেতে পারে। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে শরতের রোদ বা হালকা হাওয়া উপভোগ করা মনের ভেতর এক ধরনের প্রশান্তি নিয়ে আসে। বছরের এই সময়টিতে নাড়ির টানে মন ঘরমুখী হয়, প্রিয়জনদের সঙ্গে না শেকড়ের যোগসূত্র আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
পিতৃপক্ষের শেষ দিনে তর্পণের মধ্য দিয়ে পূর্বপুরুষদের বিদায় জানিয়ে শুরু হয় মহাশক্তির আরাধনা
অন্দরমহলে শারদীয় আমেজ
বাইরের কোলাহল আর পূজোর ভিড়ভাট্টা শুরু হওয়ার আগে ঘরটাকে যদি একটু পরিপাটি করে নেওয়া যায়, তবে পুরো উৎসবের দিনগুলোতে ঘরে ফিরলে অন্যরকম এক স্বস্তি পাওয়া যায়। অন্দরমহলে পুজোর আমেজ আনতে খুব বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, ছোট ছোট কিছু ছোঁয়াতেই ম্যাজিক হতে পারে…
রঙ ও কাপড়ের বদল: বসার ঘরের কুশন কভার, পর্দার চাদর বা টেবিল রানারে একটু উৎসবের ছোঁয়া রাখুন। সুতি বা লিলেন কাপড়ের হালকা ও উজ্জ্বল রঙের কুশন কভার বা টেবিল ক্লথ ঘরের পুরো লুক বদলে দিতে পারে।
সুগন্ধের জাদু: ঘরের কোণায় সুগন্ধি মোমবাতি (Scented Candles) কিংবা ল্যাভেন্ডার বা চন্দন কাঠের এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এর মৃদু ঘ্রাণ সারা বাড়িতে এক স্নিগ্ধ ও পবিত্র ভাব এনে দেবে।
তাজা ফুলের ছোঁয়া: মহালয়ার দিন ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণে পিতল বা মাটির পাত্রে জল রেখে তাতে কিছু তাজা গন্ধরাজ বা বেলি ফুল ভাসিয়ে দিন। কিংবা কাঁচের জারে রজনীগন্ধার স্টিক সাজিয়ে রাখতে পারেন। ফুল ঘরের চেহারা নিমেষে সজীব করে তোলে।
দেবীপক্ষের ক্ষণগণনা …
আলমারি ও ড্রয়ারের কদর: পূজোর নতুন পোশাকগুলো তুলে রাখার আগে আলমারি বা ওয়ারড্রোবটা একটু ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করে নিন। ড্রয়ারে ল্যাভেন্ডার পাউচ বা ন্যাপথলিন রেখে কাপড়গুলো গুছিয়ে রাখলে একটা পরিপাটি ভাব আসে।
মহালয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার আগে চারপাশটাকে গুছিয়ে নেওয়া কতটা আনন্দের। পূজোর এই কটি দিনের কোলাহল ও আনন্দের ভিড়ে নিজেকে এবং নিজের ঘরকে একটু সময় দিন। ছিমছাম পরিপাটি ঘর আর শান্ত মন নিয়ে মা দুর্গাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হোক আপনার আঙিনা।

