২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভি পিল্লাইকে দেওয়ায় নোবেল কমিটির সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, পিল্লাইকে এই পুরস্কার দিয়ে নোবেল কমিটি পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। একই সঙ্গে পিল্লাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পিল্লাইকে সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে নোবেল কমিটি একসময়কার মহান নোবেল শান্তি পুরস্কারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি পিল্লাইকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রকাশ্য বিদ্বেষী বলেও আখ্যা দেন। ট্রাম্পের দাবি, শান্তি প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের কোনো অবদান নেই।
সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পিল্লাই। এ কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এর আগে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর সহকর্মীদের অভিনন্দন ও করতালির জবাবে রসিকতা করে পিল্লাই বলেছিলেন, আরও একটু করতালি দিলে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কারটি ভাগ করে নিতে পারেন। জার্মানির নুরেমবার্গে সহকর্মীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলার বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও পিল্লাইয়ের সমালোচনা করেছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তাকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কার্যালয়টির অভিযোগ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে পিল্লাই ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন।
পিল্লাই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কমিশনটি গত বছর গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে কমিশনটি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনি মামলাগুলোতে ন্যায়বিচারের পক্ষে স্বাধীন অবস্থান নিয়েছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
গুতেরেসের মতে, এই পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করা ব্যক্তিদের অবদানের স্বীকৃতি।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট



