দুগ্গা আসছে: আপনি প্রস্তুত নিজেকে সাজাতে? – Sarabangla

দুগ্গা আসছে: আপনি প্রস্তুত নিজেকে সাজাতে? – Sarabangla

শরতের পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে চারপাশজুড়ে এখন আগমনীর সুর। কাশফুলের নরম ছোঁওয়ায় দোলা দিয়ে আসছে দুর্গাদেবী। মা দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে ঘিরে বাঙালির মনে আনন্দের জোয়ার। সেই আনন্দে নিজেকে তৈরি করতে প্রস্তুত বাঙালি নারীরা। দুর্গাপূজা শুধু প্রার্থনার উৎসব নয়, এটি ফ্যাশন ও নিজেদের নতুন রূপে মেলে ধরার এক দারুণ উপলক্ষ। ঢাকের কাঠি পড়ার আগেই শুরু হয়ে যায় সাজগোজের প্রস্তুতি। লাল-সাদা শাড়ি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর তার সাথে মানানসই গহনা ছাড়া পূজার সাজ যেন পূর্ণতাই পায় না। এ বছর পূজার ফ্যাশনে সাবেকিয়ানার ছোঁয়ার পাশাপাশি আধুনিক ফিউশন গহনার ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা তরুণীদের সাজে এনে দিচ্ছে এক অনন্য মাত্রা।

‘শঙ্খলতা’র ক্যানভাসে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশীয় ব্র্যান্ড ‘শঙ্খলতা’ উন্মোচন করেছে অনন্য কিছু গহনার কালেকশন। ব্র্যান্ডটির ফ্যাশন ডিজাইনার এনামতারা সাকীর হাত ধরে গড়ে উঠেছে মাটি, ধাতু, কাপড় আর প্রাকৃতিক উপাদানের নান্দনিক রসায়ন। শঙ্খলতার গহনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, সিংহবাহিনী রূপ ও আগমনীর আবেগ। এসব গহনায় ব্যবহৃত হয়েছে মাটির হাতে আঁকা দুগ্গা লকেট, প্রাকৃতিক কড়ি, রঙিন কাঁচের পুঁথি, কাঠের পুঁতি, সুতি কাপড় ও মেটালের সূক্ষ্ম কারুকাজ। লাল, হলুদ, সবুজ, নীল ও লালচে-বাদামি রঙের মাল্টি কালার মালাগুলোতে সুতোর বুনন ও রুদ্রাক্ষের স্পর্শ যেন ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির গভীরতাকে মনে করিয়ে দেয়। ভারী কাজের অক্সিডাইজড ও ব্রাস মেটালের দেবী দুর্গা সংবলিত লকেটগুলো যেকোনো সুতি, জামদানি বা তাঁতের শাড়ির সঙ্গে পরলে সাজে আসবে এক আভিজাত্যের স্পর্শ।

দুগ্গা আসছে: আপনি প্রস্তুত নিজেকে সাজাতে? – Sarabangla

ডিজাইনার এনামতারা সাকীর মুখোমুখি

পূজার বিশেষ গহনার ভাবনা নিয়ে কথা হয় ফ্যাশন ডিজাইনার এনামতারা সাকীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পূজা মানেই শুধুই উৎসব নয়, এটি আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতির উদযাপন। আজকাল নারীরা কৃত্রিম জাঁকজমকের চেয়ে গহনায় নিজস্বতা ও গল্প দেখতে ভালোবাসেন। আর তাই প্রতিবারের মতো এবারও শঙ্খলতায় আমরা চেষ্টা করেছি ঐতিহ্যবাহী কড়ি, মাটি, কাঠ আর কাপড়ের ফিউশনে দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে। আমাদের তৈরি দুগ্গা লকেট ও রঙিন মাল্টি-লেয়ার মালাগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে ষষ্ঠী থেকে দশমী,যেকোনো দিনের সাবেকি বা ফিউশন সাজেই এটি দারুণভাবে মানিয়ে যায়। প্রতিটি গহনার পেছনেই আছে শিল্পীর হাতের স্পর্শ ও ভালোবাসা।’

আজিজ মার্কেট থেকে পুরানা ঢাকা: রঙিন গহনার হাট

কেবলমাত্র ফ্যাশন হাউসগুলোতেই নয়, উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রের ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোতেও। তরুণ-তরউনীদের পছন্দের শীর্ষবিন্দু শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে এখন পূজার গহনার বিশাল সমাহার। দেশীয় ফ্যাশন উদ্যোগগুলোর শোরুমে ঝুলছে কাপড়ের তৈরি জুয়েলারি, হ্যান্ডপেইন্টেড মাটির লকেট, কাঠের ঝুলানো দুল ও ব্রাসের নান্দনিক জুয়েলারি।

অন্যদিকে, সাবেকি ও ঐতিহ্যবাহী ট্র্যাডিশনাল লুকের জন্য চিরচেনা রূপ নিয়ে সেজে উঠেছে পুরানা ঢাকা ও শাঁখারীবাজারের গহনার দোকানগুলো। মেটাল, অক্সিডাইজড সিলভার, সিটি গোল্ড, ঝুমকো, কানপাশা এবং তামার জটিল নকশার গহনা কিনতে সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। বিশেষ করে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে পুরানা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভারী অক্সিডাইজড ও গোল্ডেন ফিনিশিংয়ের গহনাগুলোর চাহিদা এবার আকাশচুম্বী।

সাধ্যের মধ্যেই পূজার গহনার দরদাম

পূজার পোশাকের পাশাপাশি বাজেটের বিষয়টি মাথায় রেখে বাজারে নানা দামের গহনার সমাহার ঘটেছে। অনন্য নকশার গহনাগুলোকে সাধ ও সাধ্যের মেলবন্ধনে সাজিয়েছেন ডিজাইনাররা…

শঙ্খলতার কালেকশন: শঙ্খলতার মাটির দুগ্গা লকেট, কড়ি, সুতো, কাঠ ও কাপড়ের কাজ করা গহনাগুলো কেনা যাবে একেবারেই সাশ্রয়ী মূল্যে। মাত্র ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যেই শঙ্খলতার চমৎকার পূজা কালেকশনের সেট ও মালাগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

আজিজ সুপার মার্কেট: হ্যান্ডপেইন্টেড উডেন সেট, ফিউশন জুয়েলারি ও মেটাল বুননের বৈচিত্র্যময় গহনার জন্য পরিচিত আজিজ মার্কেট। এখানে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত দামে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পূজার গহনা।

পুরানা ঢাকা ও শাঁখারীবাজার: শাঁখারীবাজার ও পুরানা ঢাকার দোকানগুলোতে ট্র্যাডিশনাল মেটাল, ব্রাস ও অক্সিডাইজড গহনার দাম মানভেদে ৪০০ থেকে ২,5০০ টাকার মধ্যে। পাশাপাশি এখানে ঐতিহ্যবাহী শাঁখা পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৪,০০০ টাকার মধ্যে।

নিউ মার্কেট ও অনলাইন বুটিক: সাধারণ ফ্যাশনপ্রেমীদের পছন্দ নিউ মার্কেট কিংবা গাউছিয়া। সেখানে সাধারণ অক্সিডাইজড ও ইমিটেশন জুয়েলারি ১৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেই মেলা সম্ভব। আবার বিভিন্ন প্রিমিয়াম অনলাইন বুটিকে হ্যান্ডক্রাফটেড বিশেষ গহনার সেটগুলোর দাম ১,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

পূজার দিনগুলোতে সাজের মেলবন্ধন

পূজার পাঁচ দিন নিজেকে একেক রূপে সাজিয়ে তোলার দারুণ সুযোগ থাকে। ষষ্ঠী বা সপ্তমীর সকালে হালকা একরঙা সুতি শাড়ির সঙ্গে পরতে পারেন কড়ি ও কাঠের তৈরি রঙিন মালা কিংবা কাপড়ের তৈরি দেবী লকেট। অষ্টমীর অঞ্জলির দিনে লাল-পাড় সাদা শাড়ি বা ঐতিহ্যবাহী জামদানির সঙ্গে ভারী অক্সিডাইজড দুগ্গা লকেট কিংবা ব্রাসের জমকালো হার এবং কানের দুল দারুণ মানাবে। নবমী ও দশমীর রাতে জাঁকজমকপূর্ণ কাতান বা সিল্কের সঙ্গে অ্যান্টিক কিংবা মেটালের স্টেটমেন্ট জুয়েলারি আপনাকে করে তুলবে সবার মাঝে আলাদা। আপনার কানের দুল, গলার হার কিংবা হাতের চুড়িতে যদি থাকে দুর্গা মায়ের ইতিবাচক রূপ, তবে পূজার আনন্দের উজ্জ্বলতা আরও বহু গুণ বেড়ে যাবে।

Scroll to Top