
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে যাদের দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের প্রাথমিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। পরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে মামলায় চার্জশিট দেওয়া এবং হামলার পেছনে ইন্ধন ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা হয়। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো জানান।
উপাচার্য বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করছে প্রশাসন। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভা ডেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য জানান, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তদন্তে দোষী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। এরপর সিন্ডিকেটে প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি সভা ডেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব নেই এমন কেউ হামলায় জড়িত থাকলে তার সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথাও জানান উপাচার্য। তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের নাম মামলার এজাহারে যুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে।
ঘটনার পেছনে ইন্ধন ও উসকানি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় কেউ ছাড় পাবে না। হামলায় সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যারা ঘটনাকে উসকে দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসন ভবনে কথায় কথায় তালা দেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরান বলেন, তাদের কিছু দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্যও একটি রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করলে তাঁরা সহযোগিতা করবেন। তবে কোনো গাফিলতি হলে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিনটি সাংবাদিক সংগঠন প্রশাসনের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই বয়কট চলবে। প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, প্রশাসন তাদের দাবির বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে বেশ কিছু দাবি বাস্তবায়নে সময় চাওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনের কোনো সংবাদ কভার করবেন না।
এর আগে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও ছয় নেতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও হামলার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


