নরসিংদীতে আড়াই মাস ধরে মোহাম্মদ আলী সোহান (১৩) নামের এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ রয়েছে। তবে তাকে খুঁজতে প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।
এর আগে গত ১৫ জুলাই নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলী এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ হয় সে। এরপর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার।
সোহানের সন্ধান, নিখোঁজের ঘটনা তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তার বাবা আলিম উদ্দিন।
সোহান স্থানীয় গাবতলী জামেয়া কাশেমিয়া কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদন সূত্রে জানা যায়, আলিম উদ্দিন তার পরিবার নিয়ে গাবতলী এলাকায় হাফিজুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার পাশের ঘরেই নেয়ামত মিয়া নামে আরেকজন পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। সোহান ১৫ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার চার বছর বয়সী মেয়েশিশুকে যৌন হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী পরিবারের সদস্যরা সোহানকে ভয়ভীতি দেখান।
পরে বাড়িওয়ালা হাফিজুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে সোহান ও তার পরিবারকে শাসন করেন। এ ঘটনার পর সোহানকে তার মা মারধর করেন। পরে সোহানকে বাসায় রেখে তার মা-বাবা কাজে বাইরে যান। কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে তারা সোহানকে আর পাননি। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গত ১৭ জুলাই নরসিংদী সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
নিখোঁজ সোহানের বাবা আলিম উদ্দিনের দাবি, তার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। অথচ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল। তাকে বিনা অপরাধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এরপর থেকেই নিখোঁজ সোহান।
আলিম উদ্দিন আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিয়ত খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। থানায় গিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো আশার বাণী পাইনি। আমি পুলিশের কাছে আমার ছেলেকে দ্রুত খুঁজে বের করে আমাদের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে প্রতিবেশী নেয়ামত মিয়ার কাছে সোহানের নিখোঁজের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি এড়িয়ে যান।
নিখোঁজের ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা নরসিংদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নাসিম বলেন, আমরা শিশুটি নিখোঁজের পরই দেশের সব থানায় সোহানের তথ্য পাঠিয়েছি। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ছাড়া মাদরাসাসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেও কোনো ক্লু পাইনি। আশা করছি দ্রুতই তাকে খোঁজে পাব।
নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন, নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র সোহানের বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। পুলিশ বিভিন্ন থানার সঙ্গে তার সন্ধানে যোগাযোগ রাখছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, নিখোঁজ সোহানের বাবা আমার সঙ্গে দেখা করেছে এবং একটি আবেদন জমা দিয়েছে। তার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুতই তার সন্ধান পাওয়া যাবে।




