
‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে ১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, চ্যানেল আই ২৭ বছর পেরিয়ে আজ ২৮ বছরে পদার্পণ করেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান, দেশ-সংস্কৃতি ও মানুষের গল্পকে ধারণ করে দীর্ঘ এই পথচলায় চ্যানেল আই হয়ে উঠেছে দেশের দর্শকদের পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি গণমাধ্যম। সত্য তথ্য ও সুন্দর অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে ‘সত্য সুন্দর প্রকাশে, চ্যানেল আই আটাশে’—এই স্লোগানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে চ্যানেল আই।
দেশের মাটি, মানুষ, কৃষি, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে গত ২৭ বছরে নানা অনুষ্ঠান ও সংবাদ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে তৈরি করেছে দীর্ঘ সম্পর্ক।
সংবাদ থেকে বিনোদন, কৃষি থেকে পরিবেশ, নাটক-গান থেকে টক শো—বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও সমাজের নানা দিক তুলে ধরেছে চ্যানেল আই।
চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ২৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সময়ে চ্যানেল আইয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে শুভেচ্ছা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে চ্যানেল আইয়ের ২৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিল্পী, কলাকুশলী, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে চ্যানেল আই দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। দেশ-বিদেশের বাংলাভাষী মানুষের কাছেও চ্যানেল আই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে ভুলতথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার বাড়ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও অনুষ্ঠান পরিবেশনের পাশাপাশি অপতথ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে চ্যানেল আই এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এক বাণীতে চ্যানেল আইয়ের ২৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে পরিচালনা পর্ষদ, সংবাদকর্মী, শিল্পী, কলাকুশলী, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীবন, কৃষি, টক শো ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে চ্যানেল আই প্রশংসা অর্জন করেছে।
সত্য, সুন্দর ও মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরে মানুষের সম্ভাবনার বিকাশে চ্যানেল আইয়ের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতাও জরুরি। পরিবর্তিত সময়ে মূলধারার গণমাধ্যম ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়েছে।
এসব প্ল্যাটফর্মে সংবাদ ও তথ্য প্রচারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি চ্যানেল আইয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সময় বদলেছে, বদলেছে দর্শকের সংবাদ ও বিনোদন দেখার অভ্যাসও। টেলিভিশনের পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকের উপস্থিতি বাড়ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চ্যানেল আইও তার ডিজিটাল কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।
চ্যানেল আই অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনের মাধ্যমে টেলিভিশনের পর্দার বাইরেও দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তির নতুন পরিবর্তন নিয়েও চ্যানেল আইয়ের আয়োজন রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ‘ন-মানব’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের কথা রয়েছে। সেখানে মানুষ ও এআইয়ের সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
চ্যানেল আইয়ের যাত্রায় সংবাদ একটি বড় জায়গা দখল করে আছে। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন, সমস্যা ও সম্ভাবনার গল্প তুলে ধরেছে সংবাদ বিভাগ।
চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, সময়ের সঙ্গে গণমাধ্যমের ধরন বদলেছে, আর চ্যানেল আইও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের এগিয়ে নিয়েছে। তবে ডিজিটাল যুগে তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যালগরিদম ও লাইক-শেয়ারের প্রতিযোগিতার মধ্যেও মূলধারার গণমাধ্যমকে নীতি, সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি বদলালেও গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বদলাবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে গেলেও তথ্যের সত্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতার সঙ্গে কোনো আপস করবে না চ্যানেল আই।
২৮ বছরে পদার্পণে ফেক নিউজের ভিড়ে সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদের বিশ্বস্ত আশ্রয় হয়ে থাকার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
‘তৃতীয় মাত্রা’ দীর্ঘদিন ধরে সমসাময়িক নানা বিষয়ে বিভিন্ন মতের মানুষের বক্তব্য তুলে ধরছে। ‘সংবাদপত্রে বাংলাদেশ’-এর মতো আয়োজনে সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ দিবসগুলোতেও চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব আয়োজন দর্শকদের সঙ্গে আলাদা যোগাযোগ তৈরি করেছে।
নাটক, গান, চলচ্চিত্র ও নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান চ্যানেল আইয়ের দর্শকপ্রিয়তার আরেকটি বড় অংশ। শিশু-কিশোরদের জন্য ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ‘ছোটকাকু’ দীর্ঘদিন ধরে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় রয়েছে। এ চরিত্রকে ঘিরে এ বছর ১৫ বছর পূর্তি উৎসবও হয়েছে।
চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও শিশু-কিশোরদের বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত। তার নেতৃত্বে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল কনটেন্টের পরিসরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন আয়োজনে তিনি প্রতিষ্ঠানটির দর্শক ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম, চ্যানেল আই সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের মুখ উজ্জ্বল করছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাঙালি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও চ্যানেল আই পরিবারের অংশ।
চ্যানেল আই বিশ্বাস করে, বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা এগিয়ে যাওয়া মানেই চ্যানেল আইয়ের এগিয়ে যাওয়া। ২৮ বছরে পদার্পণের এই সময়ে সেই ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে সবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আপনাদের প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
চ্যানেল আইয়ের ২৮ বছরের এই গৌরবময় ও দীর্ঘ পথচলায় সকল দর্শক, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর পরিচালনা পষর্দের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মজুমদার, ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুর মুকিত মজুমদার, ভাইস-চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ ও ভাইস-চেয়ারম্যান রিয়াজ আহমেদ খান।
২৮ বছরে এসে চ্যানেল আইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জও বদলেছে। টেলিভিশনের পাশাপাশি এখন মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দর্শকের বড় অংশের সময় দখল করছে। একই সঙ্গে এআইয়ের দ্রুত বিকাশ সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও কনটেন্ট তৈরির পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছে।
এই পরিবর্তনের মধ্যেই চ্যানেল আই তার পুরোনো স্লোগান ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’কে ধারণ করে নতুন প্রযুক্তি ও নতুন দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবারও পর্দাজুড়ে রয়েছে গান, সিনেমা, নাটক, আড্ডা, স্মৃতিচারণা ও বিশেষ অনুষ্ঠান।
১৯৯৯ সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে, ২৭ বছর পর তা টেলিভিশন, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি মিলিয়ে একটি বিস্তৃত গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ২৮ বছরের পথচলায় চ্যানেল আইয়ের সামনে তাই নতুন প্রশ্ন—পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতায় কীভাবে দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায় এবং একই সঙ্গে ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

