অবিবাহিত নারী বিদেশে গেলে পুলিশের কী সমস্যা

অবিবাহিত নারী বিদেশে গেলে পুলিশের কী সমস্যা

এখানেই সমস্যাটি নিছক কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নারীর প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি সংকীর্ণ, অভিভাবকত্বসুলভ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি নারীকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম মানুষ হিসেবে দেখে না। ধরে নেয়, তাঁর চলাফেরা, পোশাক, ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বৈধতা নির্ধারণ করবেন অন্য কেউ। কখনো পরিবার, কখনো সমাজ, আবার কখনো রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা নিজেই সেই অভিভাবকের ভূমিকায় বসে যান।

ইমিগ্রেশন পুলিশের অবশ্যই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। মানব পাচার, জাল কাগজপত্র, অপরাধীর দেশত্যাগ কিংবা আইনগত নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে তাদের প্রয়োজনীয় যাচাই করতে হবে। কোনো যাত্রীর বিষয়ে যৌক্তিক সন্দেহ দেখা দিলে আইনসম্মতভাবে প্রশ্নও করা যেতে পারে। কিন্তু সন্দেহের ভিত্তি হতে হবে তথ্য, আইন ও পেশাগত মানদণ্ড; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবিবাহিত কি না কিংবা একা ভ্রমণ করছেন কেন—এগুলো কোনো বিবেচনার বিষয় হতে পারে না। নিরাপত্তা যাচাই এবং ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার হস্তক্ষেপ এক বিষয় নয়।

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ সব নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা নিশ্চিত করেছে। ২৮ অনুচ্ছেদে লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে। আর ৩৬ অনুচ্ছেদ নাগরিকের চলাফেরা ও দেশত্যাগের স্বাধীনতা স্বীকার করেছে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক ধারণা বা নৈতিকতার ব্যাখ্যা এসব সাংবিধানিক অধিকারের ঊর্ধ্বে নয়।

Scroll to Top