যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরে একাধিক হাড় ভেঙেছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটের দিকে। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্রিস্টিন সার্জেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি ছাত্রাবাসের অষ্টম তলার কক্ষে খোলা জানালার পাশে একটি সোফার ওপর নাচছিলেন। একপর্যায়ে তিনি জানালার বাইরে পড়ে যান। নিচে ভবনের উঠান ও সুইমিং পুলের অংশে গিয়ে পড়েন তিনি।
অ্যাথেন্স-ক্লার্ক কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ক্রিস্টিনকে সচেতন ও সজাগ অবস্থায় পান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ক্রিস্টিনের বাবা রিচার্ড সার্জেন্ট স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন, তার মেয়ে এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তিনি কথা বলতে পারছেন এবং তার শরীরে একাধিক আঘাতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙেছে। মেয়ের সুস্থতার দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছে পরিবার।
পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পড়ে যাওয়ার আগে ক্রিস্টিন কক্ষে লাফাচ্ছিলেন ও গান গাইছিলেন। একপর্যায়ে তিনি জানালার দিকে গিয়ে পর্দা ভেদ করে নিচে পড়ে যান। ছাত্রাবাসের অন্য বাসিন্দারাও ঘটনাটি দেখেছেন।
তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত। এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনারও সম্ভাবনা নেই।
ঘটনার পর ছাত্রাবাসটির জানালার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের সব জানালায় এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা জানালা কতটা খোলা যাবে তা সীমিত করে। বাসিন্দাদের এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নষ্ট, খুলে ফেলা বা অকার্যকর না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
তবে ক্রিস্টিন যেই জানালা দিয়ে পড়ে গেছেন, সেখানে থাকা ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘটনাটিতে কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
অ্যাথেন্স শহরের পশ্চিম ব্রড স্ট্রিটে অবস্থিত ছাত্রাবাসটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে। ভবনটিতে ৩৪২টি আবাসিক ইউনিট ও আটটি আবাসিক তলা রয়েছে। সেখানে ব্যায়ামাগার, বড় সুইমিং পুল, কফি বারসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
ক্রিস্টিন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার পরিবার ঘটনাটি জানার পর ভার্জিনিয়া থেকে জর্জিয়ার অ্যাথেন্সে ছুটে আসে।
ক্রিস্টিনের বাবা জানিয়েছেন, জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দল ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকে হারানোর পরই ঘটনাটি ঘটে। তবে ঘটনার ঠিক আগে কী হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবার বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
মেয়ের শারীরিক অবস্থার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে রিচার্ড সার্জেন্ট বলেন, তার মেয়ে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে তিনি আশাবাদী।
সূত্র: ইউএসএ টুডে



