এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আইসিসিতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু – DesheBideshe

এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আইসিসিতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু – DesheBideshe


এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আইসিসিতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু – DesheBideshe
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন

তেল আবিব, ২৮ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মূলত দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা ও বিরোধের মধ্যে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টিম এবং আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের প্রধানকে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নথি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। খসড়া নথিতে কুর্দি সংখ্যালঘুদের ওপর তুরস্কের সামরিক হামলা এবং এরদোয়ান সরকারের পক্ষ থেকে হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে তুরস্ক জানিয়েছিল, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য তারা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে গাজামুখী গ্লোবাল সোমুদ ফ্লোটিলা আটকে দেওয়ার ঘটনায় একটি তুর্কি আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেতানিয়াহু তুর্কি প্রেসিডেন্টকে ‘অ্যান্টি-সেমিটিক স্বৈরাচারী’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান কুর্দিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছেন এবং হামাসের সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া সাম্প্রতিক ভাষণেও তিনি তুরস্ককে ইহুদি বিদ্বেষের নতুন সম্প্রসারক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তুরস্কের যোগাযোগ পরিচালক বুরহানেলতিন দুরান নেতানিয়াহুর এসব বক্তব্যকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে প্রত্যাখ্যান প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা। খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরাসরি মামলা না করে কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আইসিসিতে আবেদন করতে পারে। আবার সরাসরি মামলা করার পথও খোলা রাখা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের মামলা সামনে এনে এরদোয়ান সরকারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা এবং তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা করেছেন।

আইনগতভাবে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০০২ সালে রোম সংবিধির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা। খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরাসরি মামলা না করে কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আইসিসিতে আবেদন করতে পারে। আবার সরাসরি মামলা করার পথও খোলা রাখা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের মামলা সামনে এনে এরদোয়ান সরকারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা এবং তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা।

এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নেতানিয়াহু নিজেই আইসিসির সক্রিয় গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধপদ্ধতি হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হেগের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল ও তুরস্ক—দুই দেশই রোম সংবিধির স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে তারা আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করে না।

একইভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করেনি এবং শুরু থেকেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরোধিতা করে আসছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ বিচারিক আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালতের ক্ষমতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এর জবাবে আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ করছে এবং এটিকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সুস্পষ্ট হামলা হিসেবে দেখছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। তাই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে আদালত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভর করে। ফলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও সেটি কার্যকর করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যেই আটকে আছে।

এস এম/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Scroll to Top