
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরবর্তী চার বছরের সূচিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) নিয়ে মঙ্গলবার থেকে দুবাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে আইসিসি। সেখানে টি-টুয়েন্টি, ওয়ানডে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ডিআরএস নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হবে। ক্রিকইনফো জানিয়েছে এই খবর।
বর্তমান এফটিপি চক্র শেষ হচ্ছে ২০২৭ সালের মার্চে। এবারের বৈঠকেই পুরো এফটিপি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সদস্য দেশগুলোর বড় অংশের দ্বিপাক্ষিক সূচি নির্ধারিত হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ এফটিপি নভেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠিত আইসিসির ত্রৈমাসিক সভায় চূড়ান্ত হতে পারে।
নতুন চক্রে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর এর ফলে কমতে পারে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে টি-টুয়েন্টিকে আইসিসি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও এখন প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে টি-টুয়েন্টির জন্য জায়গা বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে।
ওয়ানডে ক্রিকেটকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডেকে আরও আকর্ষণীয় করতে ১৯৯০-এর দশকের মতো ত্রিদেশীয় বা চার জাতির সিরিজ আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
পাশাপাশি ২০২৭-৩১ চক্রে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পারস্পরিক সিরিজগুলোর বেশির ভাগই অনেকটা নির্ধারিত। অ্যাশেজ হবে ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডে, ২০২৯-৩০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় এবং ২০৩১ সালে আবার ইংল্যান্ডে। ২০২৮ সালের শুরুতে ভারত সফরে যাবে ইংল্যান্ড। ২০২৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে হবে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ।
এছাড়া ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯০০ সালের পর প্রথমবার অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। জুলাইয়ে গড়াতে চলা টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট ইভেন্ট ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজ আয়োজনের কথা রয়েছে।
এদিকে ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট আয়োজনের সুযোগ না থাকায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেশি সিরিজ খেলার দিকে নজর দিয়েছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ২০২৭-২৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজও খেলবে তারা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পরবর্তী চক্রের কাঠামো নিয়েও আলোচনা হবে সভায়। বর্তমানে নয়টি দল নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতাটি। জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে যুক্ত করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাব আগেই আলোচনায় এসেছে। এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এছাড়া ডিআরএস প্রযুক্তির সরবরাহকারী বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসি অনুমোদিত ডিআরএস সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে হক-আই ও ভার্চুয়াল আই। নতুন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের মাধ্যমে ডিআরএস প্রযুক্তির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আইসিসি।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…