ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর- জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও আপাতত ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে নৌযানের ভাড়া নিয়ে পরশু সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, গতবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরও ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবারও এখন পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এ বিষয়ে আগামী পরশু একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
লঞ্চের ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ওই বৈঠকে আলোচনা করা হবে। নৌযান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে তাদের খরচ কতটা বেড়েছে এবং এর কতটা সমন্বয় করা সম্ভব, তা দেখা হবে।
পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, পরিবহন খাতের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জড়িত। তাদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেটিও দেখতে হবে।
ট্রেনের লোকসান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়েতে লোকসান রয়েছে। তবে গতবার ভাড়া না বাড়িয়েও লোকসান ২২৫ কোটি টাকা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবার জ্বালানির দাম বাড়ায় রেলের ওপর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়েছে, তা আগামী পরশুর বৈঠকে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, ট্রেনের ভাড়া যাতে বাড়াতে না হয়, সে বিষয়ে তার শতভাগ চেষ্টা থাকবে।
পণ্য পরিবহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দর-কষাকষির মাধ্যমে ভাড়া ঠিক করার প্রচলন আছে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাসাবাড়ির মালামাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার জন্য পিকআপ ভাড়া করার ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্দিষ্ট ভাড়া কার্যকর থাকে না। মালিক ও গ্রাহকের মধ্যে দর-কষাকষির মাধ্যমে ভাড়া ঠিক হয়। তবে ট্রাকের ভাড়াও নির্ধারিত আছে, যদিও সবসময় তা মানা হয় না।
মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এস এম/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬