
ছিল না ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রাম। ছিল না মুহূর্তে ছবি, ভিডিও বা কোনো তারকার খবর ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ। তবুও সালমান শাহকে ঘিরে তার ফলোয়াররা সব সময় সক্রিয়! তার মৃত্যুর ত্রিশ বছর পূর্ণ হয়ে গেল, তবু তাকে নিয়ে মানুষের ভালোবাসা এতোটুকুও কমেনি! বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে তার জনপ্রিয়তা।
আজ সালমান শাহ বেঁচে থাকলে বয়স হতো ৫৫ বছর। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটে জন্ম নেন এই ক্ষণজন্মা! ইতোমধ্যে তার চলে যাওয়ার তিন দশক পেরিয়ে গেছে। বদলে গেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি, এসেছে নতুন প্রজন্মের অসংখ্য তারকা। কিন্তু সালমান শাহ যেন এখনো একইভাবে রয়ে গেছেন মানুষের স্মৃতিতে। কেন?
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে চলে যান সালমান শাহ। তাঁর চলচ্চিত্রজীবন ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু সেই অল্প সময়েই তিনি এমন এক জনপ্রিয়তা তৈরি করেছিলেন, যার প্রভাব তিন দশক পরও স্পষ্ট। ২০২৬ সালে তার মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্তিতেও তাকে ঘিরে আয়োজন, আলোচনা ও শ্রদ্ধা অব্যাহত রয়েছে।
সালমান শাহর বিশেষত্ব শুধু তার অভিনয়ে ছিল না। নব্বইয়ের দশকের বাংলা সিনেমায় তিনি নিয়ে এসেছিলেন এক নতুন ধরনের নায়ক-ইমেজ। পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন কিংবা পর্দায় প্রেমিক চরিত্রের উপস্থাপন সবকিছুতেই ছিল আলাদা স্বকীয়তা। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন তরুণ প্রজন্মের আইকন।
তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ রাতারাতি পরিচিত করে তোলে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য পায় এবং আজও দর্শকের কাছে পরিচিত।
তবে সালমান শাহকে মানুষের মনে এত গভীরভাবে জায়গা করে দেওয়ার পেছনে তার আকস্মিক মৃত্যুও বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে তার চলে যাওয়া দর্শকের মনে তৈরি করে অপূর্ণতার অনুভূতি! যে অপূর্ণতাই হয়তো তাকে সময়ের সঙ্গে আরও বেশি স্মরণীয় করেছে।
কারণ সালমান শাহ শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না তিনি একটি সময়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাননি, বরং সময়ের সঙ্গে নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছেন। একসময় তার সিনেমা দেখেছেন বাবা-মায়ের প্রজন্ম। পরে তাদের সন্তানরা টেলিভিশনে কিংবা পুরোনো ভিডিওতে তার সিনেমা দেখেছে। এরপর এসেছে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ। তার পুরোনো সিনেমার দৃশ্য, গান, ছবি ও সংলাপ নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কোনো একটি প্রজন্মে আটকে থাকেনি। প্রেসের যুগ থেকে টেলিভিশনের যুগ, সেখান থেকে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কমেনি।
আজকের দিনে একজন তারকার একটি ছবি বা ভিডিও কয়েক ঘণ্টায় ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু সালমান শাহ এমন এক সময়ে জনপ্রিয় হয়েছিলেন, যখন ভাইরাল হওয়ার কোনো ডিজিটাল মাধ্যমই ছিল না। মানুষের ভালোবাসাই ছিল তার জনপ্রিয়তার প্রধান মাধ্যম।
আজকের প্রজন্মের অনেকেই তাকে তার সিনেমার সময় দেখেনি, কিংবা প্রজন্মের বিরাট একটি অংশের জন্মইতো তার মৃত্যুর পর! তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি, পুরোনো সিনেমার দৃশ্য কিংবা গান নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ তার জনপ্রিয়তা শুধু তার সময়ের দর্শকের মধ্যে আটকে নেই, প্রজন্ম পেরিয়ে নতুন দর্শকের কাছেও তিনি পৌঁছে গেছেন।
সম্ভবত এখানেই একজন তারকার সঙ্গে একজন আইকনের পার্থক্য। তারকারা সময়ের সঙ্গে বদলে যান, নতুন তারকারা তাদের জায়গা নেন। কিন্তু কিছু মানুষ সময়কে অতিক্রম করে স্মৃতির অংশ হয়ে যান। সালমান শাহ তেমনই একজন।
প্রতিবেদক
ফারজিয়া হোসেন
নির্বাহী বিক্রয় ও বিপণন চ্যানেল আই
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…