
কাঠমান্ডু, ৩১ আগস্ট – হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ প্লাবনের ফলে নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৯৩৩ জন কর্মীকে উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত বুধবার নেপাল এবং তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে বরফ, কাদা ও পাথরের বিধ্বংসী ঢল নামে। এই দুর্যোগে সোমবার পর্যন্ত নেপালে ৯০৩ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দুই দেশে এখনও প্রায় পৌনে পাঁচ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা পচতে শুরু করা মরদেহগুলো সমতলের অগভীর কবরে দাফন করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই জেলা রসুয়া ও নুওয়াকোটের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকৌশলী ও কর্মীদের উদ্ধার করা। তারা বর্তমানে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।
সেনাবাহিনী সুড়ঙ্গে জমে থাকা ভারী কাদা ও পাথরের স্তূপ সরাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, এক্সকাভেটর ও সার্চলাইট ব্যবহার করছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত জানান, প্রচুর পরিমাণে ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় সুড়ঙ্গগুলো সচল করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ২১ হাজারের বেশি সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকাজে যুক্ত আছেন।
তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। সেখানে উদ্ধারকাজে দুই হাজারের বেশি উদ্ধারকারী কাজ করছেন এবং বড় অঙ্কের ত্রাণ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হিমবাহ ধসের স্থানে বড় আকারের একটি কৃত্রিম গহ্বর তৈরি হয়েছে যেখানে বিপুল পরিমাণ পানি জমে আছে। এর বাঁধ ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলে আবারও নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
এই দুর্যোগের মধ্যে তথ্য বিনিময় নিয়ে চীন ও নেপালের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও বেইজিং নিয়মিত তথ্য সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে।
এনএন/ ৩১ আগস্ট ২০২৬


