ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দৃশ্য দাবি করে দুটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ভিডিওগুলো পোস্ট করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভিডিওতে বিশাল বিস্ফোরণে তেলের মজুত ট্যাংক ও একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যেতে দেখা যায়। ওপর দিয়ে একটি যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা যায় ভিডিওতে।
তবে খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ইরানকে ভয় দেখানো বা চাপ প্রয়োগের বার্তা দিতে পারেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তবতার অতিরঞ্জিত বা সম্পূর্ণ কাল্পনিক এআই-নির্মিত কনটেন্ট প্রকাশের নজিরও রয়েছে তার।
ট্রাম্পের ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের লারাক দ্বীপে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। জুলাইয়ের শেষের পর ইরানে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।
হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ছোট দ্বীপ লারাকে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে আরও সমুদ্র মাইন স্থাপন করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, কৌশলগত এই জলপথ থেকে বিস্ফোরক অপসারণের কাজ শেষ করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মাইন স্থাপনকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সীমিত ও নির্ভুল অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, তারা পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’র দাবি করা হয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উৎস সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
পরে তেহরান জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের জন্য খার্গ দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
তবে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে খার্গ দ্বীপে খুব কমসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ দেখা গেছে। তবে অন্যান্য দেশের তেল বিকল্প একটি রুট ব্যবহার করে ওমানের উপকূল ধরে জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে।
ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। হরমুজ প্রণালি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। দ্বীপটির আশপাশের পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় ইরানের অগভীর উপকূলীয় এলাকায় ভিড়তে না পারা বড় আকারের তেলবাহী জাহাজও এখানে নোঙর করতে পারে।
ফলে খার্গ দ্বীপে হামলা হলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং দেশটির অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ।


