নেপালের ভূমিকম্প ও ভূমিধস: বাংলাদেশকে এখনই যা করতে হবে

ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটে বড় ভূমিকম্প হলে একই সঙ্গে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সরু ও বাধাগ্রস্ত সড়ক, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ভবন, খোলা জায়গার অভাব, গ্যাস ও বিদ্যুৎ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড, হাসপাতালের ক্ষতি এবং যোগাযোগ–বিচ্ছিন্নতা উদ্ধার অভিযানকে ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। বিমানবন্দর, বন্দর, সেতু কিংবা প্রধান মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদেশি দল ও ভারী সরঞ্জাম আসার আগেই জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে মূল্যবান সময় পেরিয়ে যেতে পারে।

অতএব, বিদেশি উদ্ধারকারী দলের ওপর নির্ভরতাকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিকল্পনার প্রধান ভিত্তি বানানোর সুযোগ নেই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের হেভি উসার দল গঠন করতে হবে। তাদের কাটিং, ব্রেকিং, ব্রিচিং, শোরিং, লিফটিং, টানেলিং এবং কনফাইন্ড স্পেস রেসকিউ সক্ষমতা থাকতে হবে। প্রতিটি দলকে খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আবাসনসহ অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কাজ করার উপযোগী করতে হবে।

কে-৯ অনুসন্ধান, প্রযুক্তিনির্ভর জীবিত শনাক্তকরণ, রোপ রেসকিউ, জরুরি চিকিৎসা এবং কাঠামোগত প্রকৌশল মূল্যায়নকে একক কমান্ডে আনতে হবে। একটি স্থায়ী ন্যাশনাল উসার কো-অর্ডিনেশন সেল, জাতীয় ডিভিআই ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় অপারেশনাল তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে হবে। বিমানবন্দরে বিদেশি দলের জন্য রিসেপশন অ্যান্ড ডিপারচার সেন্টার, দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ছাড় এবং বিকল্প বিমানবন্দর, স্থলপথ ও সমুদ্রপথ ব্যবহারের পরিকল্পনা আগেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

Scroll to Top