হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদ থেকে বন্যার আশঙ্কা আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে চীন। ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে আসার পর শুক্রবার বিকেলে সীমান্ত এলাকায় স্থগিত থাকা উদ্ধার অভিযান আবার শুরু করেছে দেশটি।
চীন ও নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর বৃহস্পতিবার হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে বন্যার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। হিমবাহ ধসে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। এর ফলে সেখানে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যেটি ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের বন্যা হতে পারে।
শুক্রবার ২৮ আগস্ট রয়টার্স জানিয়েছে, নেপালের কর্মকর্তাদের তথ্য ও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হ্রদটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এটি দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় এবং গিরং সীমান্ত চৌকির উজানে অবস্থিত।

বুধবারের আকস্মিক বন্যায় সীমান্ত চৌকি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে মানুষ ও যানবাহন ভেসে যায়।
শুক্রবার সকালে হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা এবং পাহাড়ধস ও তুষারধসের মতো সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও যানবাহনকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর উদ্ধার অভিযান আবার শুরু করার পাশাপাশি তা জোরদার করা হয়।

চীনা প্রকৌশলীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হ্রদটির পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটারের বেশি হয়েছে। এক দিন আগে সেখানে পানির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার ছিল।
বৃহস্পতিবার চীন একটি আট সদস্যের প্রকৌশলী দলকে ওই এলাকায় পাঠায়। দলটি আকাশপথে জরিপ ও ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরির মাধ্যমে হ্রদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রকৌশলী দলের সদস্য চেন হানশিয়াও জানান, দুর্গম অবস্থানের কারণে সেখানে কাজ করা বেশ কঠিন। হিমবাহ ধসে হ্রদটি তৈরির পর এর তীরজুড়ে বিচ্ছিন্ন ও খাড়া পাহাড় তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গিরং সীমান্ত বন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে হ্রদের উজানের আশপাশের মাটি ও পাথর আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগামী এক সপ্তাহেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
চীন বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছিল, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে ঢুকতে পারে। এই পরিমাণ পানি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান। এতে হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা গেছে, কোনো দৃশ্যমান বহির্গমন পথ ছাড়াই একটি অববাহিকায় বিপুল পরিমাণ বাদামি পানি জমেছে। এরই মধ্যে পানিতে গাছপালা ও ঝোপঝাড় ডুবে গেছে এবং পানির চাপ ধ্বংসাবশেষ ও পাথরের তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধের দিকে বাড়ছে।
এদিকে তিব্বত অংশে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে।
চীন-নেপাল সীমান্তের উভয় পাশে এখনো প্রায় ১ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১টি দেশের সর্বোচ্চ ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।