নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নদীতে জমা হওয়া ধ্বংসাবশেষের কারণে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা ভয়াবহ বন্যার কারণ ও পরবর্তী ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই সতর্কতা জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ বন্যার সময় পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর, গাছপালা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহে গিয়ে জমা হয়েছে। এর ফলে নদীর সরু অংশে পানিপ্রবাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ত্রিশূল নদীর কোনো কোনো সরু অংশে ধ্বংসাবশেষ জমে সাময়িক বাঁধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নদীর পানি আটকে গিয়ে ভূমিধসজনিত বাঁধের সৃষ্টি হতে পারে। পরে সেই বাধা ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে এসে দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে নদীর কোথায় কতটা ধ্বংসাবশেষ জমেছে এবং সেগুলো পানিপ্রবাহ কতটা বাধাগ্রস্ত করছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্ভাব্য বাধাগুলোর আকার, অবস্থান ও স্থায়িত্ব নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ ও বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে কাজ করছেন। সম্ভাব্য নদী অবরোধ শনাক্ত করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত সতর্কতা জারি করা এবং প্রয়োজন হলে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তাই নদীর পানিপ্রবাহ ও পাহাড়ি এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বুধবারের আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে দ্বিতীয় দফার বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।