
নেপিডো, ২৫ আগস্ট – মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির নজিরবিহীন অবনতি ঘটেছে এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্প্রতি মিয়ানমারের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে দেশটির চলমান সহিংসতা, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত পাঁচ বছরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং গণতন্ত্রপন্থী ও বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান যুদ্ধে অন্তত এক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং ভীতি সঞ্চার করতে সামরিক জান্তা এখন উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বাড়িয়েছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ এখন শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া নিয়মিত বিমান হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মতো ঘটনাগুলো মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড ছাড়াও অবৈধ খনি থেকে সম্পদ আহরণ, মাদক উৎপাদন, মানবপাচার এবং সাইবার প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিবেদনটি মিয়ানমারের মানুষের যে ভয়াবহ দুর্ভোগ ও নিষ্ঠুরতার চিত্র প্রকাশ করেছে তা সত্যিই হৃদয়বিদারক। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের এখন আত্মজিজ্ঞাসার সময় এসেছে যে তারা মিয়ানমারের জনগণের প্রতি সুবিচার করছে কি না।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এর পর থেকেই দেশটিতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
বর্তমানে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়েছে।
এনএন/ ২৫ আগস্ট ২০২৬


