মিরপুরের হাজি মার্কেট এলাকায় থাকেন গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি জানান, চার মাস ধরে তাঁর বাসায় গ্যাসের সমস্যা। কিছুদিন আগে মধ্যরাতে কিছুটা গ্যাস এলেও এখন একদমই আসে না। বিকল্প হিসেবে গ্যাসের সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন তিনি। আয়েশা বলেন, ‘এখন তো এমনিতেই বিদ্যুৎ বিল বাড়তি। তার ওপর ইন্ডাকশন চুলা জ্বালানোর জন্য বিল আরও বেশি আসে। আগে ১ হাজার টাকা বিল আসত, এখন আসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। আর সরকারকে তো গ্যাসের জন্য টাকা দিচ্ছিই।’
দেশে ৯ বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের।
টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে এলএনজির নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমতে কমতে ১৯ আগস্ট বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে অবশ্য এলএনজির একটি কার্গো আসায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে গ্যাস–সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগবে।