পর্তুগালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করতে ঐতিহাসিক তালাসনাল গ্রাম ও অবিদোস শহর ভ্রমণ করেছেন পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্যরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আয়োজিত এই ভ্রমণে প্রেসক্লাবের সদস্যরা পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের লুসা পর্বতমালায় অবস্থিত প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো তালাসনাল গ্রাম ঘুরে দেখেন। পরে তারা ঐতিহাসিক দুর্গনগরী অবিদোস পরিদর্শন করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্তুগালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রেসক্লাবের সদস্যদের জানানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলতেই এ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।
ভ্রমণ শেষে প্রেসক্লাব সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন মজার খেলার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার বিতরণ শেষে প্রেসক্লাবের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, পর্তুগালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আমাদের প্রেসক্লাব সদস্যদের জানতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলে আমরা পর্তুগালের সঙ্গে মিলে-মিশে বসবাস করতে পারব।
ভ্রমণে অংশ নেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা সম্পাদক জাহিদ কায়সার, সাবেক সভাপতি রনি মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ প্রিন্স, সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক আর এ ইহসান এবং সদস্য সজীব হোমরায়, শামীম আহমেদ, সেলিম আহমেদ ও শ্রাবণ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা করেন ফাস্ট সলিউশন, খলিলুল্লাহ সাগর ও ইকবাল হোসেন কাঞ্চন।
পর্তুগালের মধ্যভাগের লুসা পর্বতমালায় অবস্থিত তালাসনাল গ্রামটি ১৬৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি স্থানীয় কালো স্লেট বা শিস্ট পাথর দিয়ে তৈরি। সরু পাথর বাঁধানো পথ, সবুজ পাহাড় ও বন ঘেরা পরিবেশ গ্রামটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে তালাসনালে প্রায় ১২৯ জন মানুষের বসবাস ছিল। সময়ের সঙ্গে অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ায় ১৯৮১ সালে সেখানে মাত্র দুজন স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে পুরোনো বাড়িগুলো পুনরুদ্ধার করে ক্যাফে ও গেস্টহাউস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরাইখানায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পনির পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে তালাসনাল বর্তমানে হাইকিং ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও জনপ্রিয়।
লিসবন থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত অবিদোস একটি ঐতিহাসিক দুর্গনগরী। কেল্ট, রোমান, ভিসিগথ ও মুরদের শাসনের পর ১১৪৮ সালে পর্তুগালের প্রথম রাজা আফনসো হেনরিকস মুরদের কাছ থেকে শহরটি পুনরুদ্ধার করেন।
ঐতিহাসিক স্থাপনা, দুর্গ ও প্রাচীন নগরীর আবহের কারণে অবিদোস পর্তুগালের অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।


