শরৎকালে বাঙালি সনাতনীদের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা হয়। এ ছাড়া লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা, বিশ্বকর্মা পূজাও হয়।
এ সময় নানা রকম দেশীয় ফল পাওয়া যায়। তাল, জলপাই, চালতা, আমলকী। নানা রকম সবজিও বাজারে আসে। পালংশাক, মূলা, নতুন রসুন, পেঁয়াজ, বেগুন, লালশাক, পুঁইশাক।
শরৎকালে আমাদের দেশে নানা রকম লোকজ সংস্কৃতির আনন্দ আমরা উপভোগ করি। যেমন ঘুড়ি উৎসব, নৌকা বাইচ, যাত্রাপালা, বাউল গান, ঘর এবং উঠানে বাড়ির বধূরা চালের গুঁড়া দিয়ে আলপনাও আঁকে এই ঋতুতে।
নবান্নের আগমনী বার্তা অপার এক আনন্দের আবহ নিয়ে আসে বাংলার কৃষকদের কাছে। তারা ধান কাটা শুরু করে দেয়। আহ কি মধুর সেই গ্রামীণ চিত্রপট!
আজকাল শরৎ এলেই বন্ধুরা সবাই দলবেঁধে ছুটে যায় কাশফুলের কাছে। কাশফুলের শুভ্রতায় তারা নিজেরা যেন হারিয়ে যায় তাদের দুরন্ত শৈশবে।
মনপ্রাণ ঢেলে জীবনানন্দের কবিতায় দেখে বাংলার রূপ…
‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়, হয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে।’