এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের অগ্রগতি এবং সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক যেকোনো প্রতিযোগিতায় কেবল ‘অংশগ্রহণই’ মূল লক্ষ্য না হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক জয়ের মানসিকতা নিয়ে লড়াই করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
আমিনুল হক তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই সেরা পারফর্মারদের এশিয়ান গেমসের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তারা যেন বাদ না পড়ে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য স্থায়ী কোচ নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী দলের প্রস্তুতি, মোট খেলোয়াড় ও অফিশিয়ালদের সংখ্যা এবং তাদের ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে ফেডারেশনগুলোর প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়।
আলোচনাকালে দল গঠনের ক্ষেত্রে পদের অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। যেমন-শুটিং ফেডারেশনের এক কর্মকর্তাকে ক্যাম্প ডিরেক্টর হিসেবে পাঠানোর ঘোষণা দেয়া হলেও তালিকায় তাকে পিস্তল কোচ হিসেবে দেখানোর বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকদের হঠাৎ করে কোচ হিসেবে যাওয়ার প্রবণতাকে তিনি সম্পূর্ণ অশোভনীয় বলে আখ্যা দেন।
অফিশিয়াল কাউকে কোচ বানিয়ে পাঠানোর সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, যিনি সারা বছর খেলোয়াড়দের কঠোরভাবে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাঁকেই কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোচের দায়িত্ব নিয়ে যেতে হবে। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতির জন্য যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের স্টেডিয়ামপাড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অত্যন্ত জোর দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি সম্প্রতি ঢাকা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে জানান যে, বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া সত্ত্বেও পরিবেশের আশানুরূপ পরিবর্তন এখনও ঘটেনি। এমনকি ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পরিমণ্ডলের কিছু ব্যক্তির এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত থাকার দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
আমিনুল হক বলেন, কেবল অফিসে বসে প্রশাসনিক কাজ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং প্রতিটি ফেডারেশন ভবন ও তার আশেপাশের পরিবেশ খেলাধুলার উপযোগী রাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সকল কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামসহ কমলাপুরের পরিবেশকে সত্যিকারের খেলাধুলাবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য প্রতিমন্ত্রী সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ অংশগ্রহণ করেন।


