পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালে না নেওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
শনিবার (২২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে পিটিআইয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পিটিআইয়ের আইনজীবী নাঈম পাঞ্জুথা বলেন, আবেদনে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসককে রাখার কথাও বলা হয়।
তবে কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
পিটিআইয়ের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার সময় ইমরান খানকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। দলটির দাবি, এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইমরান খানকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এমন কোনো সমস্যা তার মধ্যে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইমরান খানের বোন উজমা খান দাবি করেছেন, হাসপাতালে পরীক্ষার সময় তার ভাই তাকে কারাগারে বারবার নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কারা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানকে ঘিরে সর্বশেষ ঘটনাটি পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। পিটিআই জানিয়েছে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরানের মুক্তি এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।


