বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) ওয়েবসাইটে তালিকাটি প্রকাশ করা হলেও নতুন ব্যবস্থায় এসব এজেন্সি কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোর নাম কবে আপলোড করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে এসব এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের আদেশ কীভাবে বণ্টন হবে, বাংলাদেশি কর্মীরা কবে থেকে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন কিংবা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কী হবে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের চাকরি না পাওয়া, নানা ধরনের অনিয়ম ও নির্যাতনের অভিযোগের পর দেশটি এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল মালয়েশিয়া। সে সময় অন্য কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির চাহিদাপত্র পেলেও অনুমোদিত ১০১ এজেন্সির যেকোনো একটির মাধ্যমে তা প্রক্রিয়া করার নিয়ম ছিল। নিয়ন্ত্রিত এই সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা ও সংশোধিত চুক্তি তৈরির লক্ষ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে দুই দেশ সম্মত হয়।
পরে মালয়েশিয়া জানায়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটার আবেদন এফডব্লিউসিএমএসের ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হবে। এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে কবে খুলবে এবং নতুন ব্যবস্থায় আগের অনিয়ম কীভাবে বন্ধ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের চুক্তি করা, কর্মীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা অর্থ গ্রহণ করা যাবে না।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এ ধরনের যেকোনো নিয়োগ কার্যক্রম বেআইনি বা অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে।
এফডব্লিউসিএমএসের তালিকায় বাংলাদেশের যে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম রয়েছে, সেগুলো হলো:
১. বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড ২. বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ৩. জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি ৪. ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস ৫. অন্বেষা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ৬. আত-ত্বাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড ৭. আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ৮. খান জাহান আলী ওভারসিজ ৯. মেসার্স আল-সুপ্ত ওভারসিজ ১০. মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড ১১. রিফা ইন্টারন্যাশনাল ১২. ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১৩. এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল ১৪. আল-হায়াত ওভারসিজ ১৫. ভালুকা ওভারসিজ ১৬. ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড ১৭. চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল ১৮. কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ১৯. গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড ২০. জুয়েল রিংকু এন্টারপ্রাইজ
২১. মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল ২২. ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিংক ২৩. নেইবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড ২৪. তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং ২৫. দ্য অ্যাংকর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।
তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের রিক্রুটিং এজেন্সির নামও রয়েছে।
তবে বাংলাদেশের জন্য এই ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমেই নিয়োগ সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, চাকরির চাহিদাপত্র কীভাবে বণ্টন হবে এবং কর্মীদের মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


