ছুটির দিন মানেই শিশুদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব তুলে দেওয়া নয়। পরিবারের সবাই মিলে একটি ভালো সিনেমা দেখাও হতে পারে আনন্দের পাশাপাশি শেখার দারুণ সুযোগ। বিশেষ করে এমন কিছু ইংরেজি সিনেমা রয়েছে, যেগুলো শিশুদের কল্পনাশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধুত্ব, সাহস, পরিবার, স্বপ্ন ও মানবিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখায়।
ছুটির দিন বাচ্চাদের সঙ্গে দেখে নিতে পারেন এমন ১০টি সিনেমা—
১. দ্য লায়ন কিং
সিংহশাবক সিম্বার গল্প নিয়ে তৈরি এই জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমায় রয়েছে পরিবার, বন্ধুত্ব, দায়িত্ব ও নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প। শিশুদের জন্য বিনোদনের পাশাপাশি সিনেমাটি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তাও দেয়।
২. টয় স্টোরি
খেলনাদের একটি মজার জগতকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সিনেমায় বন্ধুত্ব, বিশ্বাস ও একে অপরের পাশে থাকার গল্প উঠে এসেছে। শিশুদের কল্পনার জগতকে আরও রঙিন করে তুলতে পারে সিনেমাটি।
৩. ফাইন্ডিং নিমো
সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যাওয়া ছেলে নিমোকে খুঁজতে তার বাবার অভিযানের গল্প। পরিবার ও সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, সাহস এবং কখনো হাল না ছাড়ার শিক্ষা রয়েছে এতে।
৪. আপ
একজন বৃদ্ধ ও এক শিশুর অদ্ভুত বন্ধুত্বের গল্প। স্বপ্ন, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার বার্তা দেয় এই সিনেমা।
৫. হ্যারি পটার সিরিজ
জাদু, বন্ধুত্ব ও অ্যাডভেঞ্চারে ভরা এই সিরিজ শিশু-কিশোরদের মধ্যে কল্পনাশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সাহস, আনুগত্য ও বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে। বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত পর্ব বেছে দেখা যেতে পারে।
৬. দ্য ক্রনিকলস অব নার্নিয়া
একদল শিশুর রহস্যময় এক জগতে প্রবেশের গল্প। কল্পনা, সাহস, বন্ধুত্ব ও ভালো-মন্দের লড়াইকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিনেমাটি।
৭. প্যাডিংটন
ভালোবাসা, পরিবার ও ভদ্রতার মজার গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমা শিশুদের জন্য বেশ উপভোগ্য। অচেনা কাউকেও সহানুভূতি ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করার সুন্দর বার্তা রয়েছে এতে।
৮. কোকো
পরিবার, স্মৃতি ও নিজের শিকড়ের গল্প নিয়ে তৈরি এই অ্যানিমেশন সিনেমা। সংগীত ও আবেগের সঙ্গে পরিবারের গুরুত্বকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে এটি।
৯. হাউ টু ট্রেইন ইয়োর ড্রাগন
এক কিশোর ও একটি ড্রাগনের বন্ধুত্বের গল্প। ভয়কে জয় করা, অন্যকে বোঝার চেষ্টা করা এবং নিজের মতো করে চিন্তা করার সাহস শেখায় সিনেমাটি।
১০. ওয়ান্ডার
একটি শিশুর স্কুলজীবন, বন্ধুত্ব ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার গল্প। মানুষের বাহ্যিক চেহারা নয়, তার আচরণ ও মনের সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়ার মানবিক শিক্ষা রয়েছে এই সিনেমায়।
মনোবিজ্ঞানীরা কী বলেন?
শিশুদের বয়স ও মানসিক বিকাশের উপযোগী সিনেমা তাদের কল্পনাশক্তি ও সামাজিক-আবেগীয় দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হতে পারে। গল্পের চরিত্রগুলোর আচরণ, সিদ্ধান্ত ও আবেগ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুরা বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা, সাহস, দায়িত্ববোধ ও সমস্যা সমাধানের মতো বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
তবে শুধু সিনেমা দেখালেই হবে না। শিশুর বয়স অনুযায়ী বিষয়বস্তু নির্বাচন এবং দেখার সময়সীমার দিকেও নজর রাখা জরুরি। সিনেমা শেষে শিশুর সঙ্গে গল্প নিয়ে কথা বলা, চরিত্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাওয়া কিংবা গল্প থেকে কী শেখা যায় তা নিয়ে আলোচনা করলে দেখার অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ হতে পারে।
ছুটির দিন হোক আনন্দের, শেখারও
শিশুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আনন্দ, কল্পনা ও পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। একটি ভালো সিনেমা সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তাই এবারের ছুটির দিনে মোবাইল হাতে তুলে দেওয়ার বদলে পরিবারের সবাই মিলে বেছে নিন বয়স উপযোগী একটি সিনেমা। পপকর্ন, প্রিয় মানুষ আর একটি সুন্দর গল্প ছুটির দিনের জন্য এর চেয়ে ভালো আয়োজন আর কী হতে পারে!


