ইন্দোনেশিয়ায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৩৮, ধ্বংসস্তূপে আটকে অনেকে – DesheBideshe



জাকার্তা, ১৫ আগস্ট – ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে একদিনের ব্যবধানে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভোরে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর একই দিনে আরও একটি ৬.৯ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানের কর্মকর্তা ফাথুর রহমান জানান, দ্বীপের চারটি শহরে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি হয়েছে। প্রতিবেশী মাংগারাই অঞ্চলে ধসে পড়া ভবনের নিচে দুজন জীবিত আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।

বর্তমানে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য হলো আটকা পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করা। তবে বেশ কিছু এলাকায় ভূমিধসের ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় সুনামির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নাগেকেও এলাকার বাসিন্দারা সমুদ্রের পানি সরে যেতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। তবে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (বিএমকেজি) পরবর্তীতে সুনামির সতর্কতা তুলে নেয়। আফটারশকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ৬.১ মাত্রার একটি আফটারশকসহ ডজনখানেক ছোট কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়োহানেস বাবো জানান, ভোরের কম্পনটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। হাসপাতালের রোগীরাও আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে জানান আরেক বাসিন্দা লুকাস লোতার।

মূলত ছোট শহর ও গ্রাম হওয়ায় ওই অঞ্চলে বহুতল ভবনের সংখ্যা কম, যা আরও বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত। এর আগে ১৯৯২ সালে ফ্লোরেসে ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামিতে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এস এম/ ১৫ আগস্ট ২০২৬



Scroll to Top