দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একদিকে ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা, অন্যদিকে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আরোপিত শুল্কের ধাক্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।
রোববার (১৬ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ও মানসিক ‘ত্রাণ’ দেওয়ার লক্ষ্যে কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলিয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা প্রস্তাবিত ওই শুল্ক কার্যকরের বিষয়টি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান ট্রাম্পকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১০ মিনিটের একটি ফোনালাপে এ অনুরোধ জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১০ মিনিটের এই ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গত সোমবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে কলম্বিয়ায়। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশজুড়ে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই চরম দুঃসময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরে রাখা কলম্বিয়ার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রই দেশটির সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। তবে গত জুলাইয়ের শেষভাগে কফি ও তেলজাতীয় কিছু ব্যতিক্রমী পণ্য ছাড়া অন্যান্য কলম্বিয়ান পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়।
ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি তাকে বলেছি, আমাদের সামনে এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া চরম আশঙ্কাজনক ও ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এখন পুরো কলম্বিয়াকে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্প-পরবর্তী এই পুনর্গঠন কাজের জন্য আনুমানিক ৬৪০ কোটি (৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন হবে। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী মিগেল গোমেজ জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংস্থানের জন্য সরকার এখনই নতুন করে কর বাড়ানোর কথা ভাবছে না।
উল্লেখ্য, কথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক-সম্পর্কিত একটি আইনি পরাজয়ের পরপরই হোয়াইট হাউস ঘোষণা করে, তারা কলম্বিয়াসহ প্রায় সব মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে ডানপন্থী দে লা এসপ্রিয়েলা এক কোটিপতি আইনজীবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছেন। গত জুনে বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদাকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করার সময় ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছিলেন।
চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দে লা এসপ্রিয়েলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরি করতে শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং একাধিক দক্ষিণ আমেরিকান দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত মাদক কার্টেলবিরোধী জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এ যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন।


